৬/৪৮. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৫২ - আশুরার রোজা ও এক বছরের কাফফারা

আশূরার দিন রোজা পালনের উৎসাহ প্রদান করা

আশুরার রোজার ফজিলত: এক বছরের গুনাহ কাফফারার আশা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৫২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ» .وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَمُحَمَّدِ بْنِ صَيْفِيٍّ وَسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ وَهِنْدِ بْنِ أَسْمَاءَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَالرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَلَمَةَ الْخُزَاعِيِّ عَنْ عَمِّهِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ذَكَرُوا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ حَثَّ عَلَى صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ .قَالَ أَبُو عِيسَى لاَ نَعْلَمُ فِي شَيْءٍ مِنَ الرِّوَايَاتِ أَنَّهُ قَالَ " صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ كَفَّارَةُ سَنَةٍ» . إِلاَّ فِي حَدِيثِ أَبِي قَتَادَةَ . وَبِحَدِيثِ أَبِي قَتَادَةَ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট আমি আশা পোষণ করি যে, তিনি আশূরার রোযার মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছরের (গুনাহ্‌) ক্ষমা করে দিবেন।

এই অনুচ্ছেদে আলী, মুহাম্মাদ ইবনু সাইফী, সালামা ইবনুল আকওয়া, হিন্দ ইবনু আসমা, ইবনু আব্বাস, রুবাই বিনতু মুআওবিয ইবনু আফ্‌রা, আবদুর রাহমান ইবনু সালামা আল-খুযাঈ, তার চাচার বরাতে এবং আবদুল্লাহ্‌ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) প্রমুখ বর্ণনা করেনঃ রাসূল (ﷺ) লোকদেরকে আশূরার দিন রোযা পালন করতে উৎসাহিত করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি ছাড়া আর অন্য কোন বর্ণনায় “আশূরার দিনের রোযা এক বছরের (গুনাহের) কাফ্‌ফারা স্বরূপ” এই কথা উল্লেখ আছে বলে আমাদের জানা নেই। ইমাম আহ্‌মাদ ও ইসহাক (রহঃ) আবূ কাতাদা (রাঃ)-এর হাদীস অনুযায়ীই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৫২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আশুরার রোজার বড় একটি ফজিলত বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তিনি আল্লাহর কাছে আশা করেন যে আশুরার রোজার মাধ্যমে আগের এক বছরের গুনাহ কাফফারা করা হবে। এখানেও বক্তব্যের ধরন হলো আশা এবং আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা। তাই আশুরার রোজা নিয়ে কথা বলার সময় অতিরঞ্জিত নিশ্চয়তা না দিয়ে হাদিসের ভাষা বজায় রাখা দরকার। এই রোজা একজন মুসলিমকে নিজের আগের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে এবং নতুনভাবে আল্লাহর দিকে ফিরতে উৎসাহ দেয়। বর্ণনাটি আশুরার দিনের রোজার মর্যাদা বোঝায়, কিন্তু এখানে কোন তারিখে রাখতে হবে বা এটি ফরজ কি না—সেসব বিস্তারিত বলা হয়নি। ওই বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট অন্য হাদিসে এসেছে। এই হাদিসের সরাসরি শিক্ষা হলো আশুরার রোজা এবং আগের এক বছরের গুনাহ কাফফারার আশা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আশুরার রোজায় আগের এক বছরের গুনাহ কাফফারার আশা করা যায়।
  • ক্ষমা আল্লাহর কাছ থেকেই চাওয়া হয়।
  • ফজিলত বর্ণনায় নিশ্চিত দাবি না করে হাদিসের ‘আশা’ শব্দের ভারসাম্য রাখা উচিত।
  • আশুরার রোজা তওবা ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন