৩/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৫৮ - বিতর নামাজের রাকাতের ভিন্ন বর্ণনা
বিতর নামাজ সাত রাকাত আদায় করা
বিতর নামাজের রাকাত: তের, সাত ও অন্যান্য বর্ণনার ইঙ্গিত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৫৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৫৮
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُوتِرُ بِثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً فَلَمَّا كَبِرَ وَضَعُفَ أَوْتَرَ بِسَبْعٍ. قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أُمِّ سَلَمَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ. وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ الْوِتْرُ بِثَلاَثَ عَشْرَةَ وَإِحْدَى عَشْرَةَ وَتِسْعٍ وَسَبْعٍ وَخَمْسٍ وَثَلاَثٍ وَوَاحِدَةٍ.قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ مَعْنَى مَا رُوِيَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُوتِرُ بِثَلاَثَ عَشْرَةَ قَالَ إِنَّمَا مَعْنَاهُ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً مَعَ الْوِتْرِ فَنُسِبَتْ صَلاَةُ اللَّيْلِ إِلَى الْوِتْرِ. وَرَوَى فِي ذَلِكَ حَدِيثًا عَنْ عَائِشَةَ وَاحْتَجَّ بِمَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ " أَوْتِرُوا يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ " . قَالَ إِنَّمَا عَنَى بِهِ قِيَامَ اللَّيْلِ يَقُولُ إِنَّمَا قِيَامُ اللَّيْلِ عَلَى أَصْحَابِ الْقُرْآنِ.
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) তের রাক’আত বিতর আদায় করতেন। যখন তিনি বার্ধক্যে পৌঁছলেন এবং দুর্বল হয়ে পড়লেন তখন সাত রাক’আত বিতর আদায় করেছেন।
এ অনুচ্ছেদে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ উম্মু সালামার হাদীসটি হাসান। নবী (ﷺ) হতে বিতরের নামায তের, এগার, নয়, সাত, পাঁচ, তিন, এক রাক’আত বর্ণিত আছে। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম বলেন, নবী (ﷺ) হতে তের রাক’আত বিতর আদায়ের যে বর্ণনা রয়েছে তার তাৎপর্য হল, রাতের বেলা তিনি (তাহাজ্জুদসহ) তের রাক’আত বিতর আদায় করতেন। এজন্যই রাতের নামাযকে বিতর বলা হয়েছে (বিতরের নামায বলা হয়নি)। এ প্রসঙ্গে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) -এর একটি হাদীস বর্ণিত আছে। ইসহাক বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে কোরআনের ধারকগণ! বিতর আদায় কর। এই বলে তিনি রাতের নামায বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি (ইসহাক) এর অর্থ করেছেন, হে কোরআনের ধারকগণ! রাতে দাঁড়ানো (নামায আদায় করা) জরুরী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের অনুবাদ ৪৫৭ নম্বর বর্ণনার মতোই। উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم তের রাকাত বিতর আদায় করতেন। বার্ধক্য ও দুর্বলতার পর তিনি সাত রাকাত বিতর আদায় করেছেন। কোর টপিক হলো বিতরের রাকাত। আরবি অংশে আরও উল্লেখ আছে, নবী صلى الله عليه وسلم থেকে তের, এগার, নয়, সাত, পাঁচ, তিন এবং এক রাকাত বিতরের বর্ণনা এসেছে। তাই এই হাদিস পড়লে বোঝা যায়, রাতের নামাজ ও বিতরের আলোচনায় সংখ্যা নিয়ে তাড়াহুড়া করে কঠোর সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। তবে ব্যাখ্যা অবশ্যই টেক্সটের সীমায় থাকবে। এখানে প্রধান শিক্ষা হলো, নবী صلى الله عليه وسلم ইবাদতে নিয়মিত ছিলেন এবং বয়স ও দুর্বলতার অবস্থাও বর্ণনায় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর তের রাকাত বিতরের কথা এসেছে।
- দুর্বলতার পর সাত রাকাত বিতরের কথা এসেছে।
- টেক্সটে বিতরের একাধিক রাকাত সংখ্যার বর্ণনার কথা উল্লেখ আছে।
