৩/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৫৯ - পাঁচ রাকাত বিতর ও রাতের নামাজ
বিতর নামাজ পাঁচ রাকাত
পাঁচ রাকাত বিতর: তের রাকাত রাতের নামাজের বর্ণনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৫৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৫৯
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ الْكَوْسَجُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ صَلاَةُ النَّبِيِّ ﷺ مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ مِنْ ذَلِكَ بِخَمْسٍ لاَ يَجْلِسُ فِي شَيْءٍ مِنْهُنَّ إِلاَّ فِي آخِرِهِنَّ فَإِذَا أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ. قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَقَدْ رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمُ الْوِتْرَ بِخَمْسٍ وَقَالُوا لاَ يَجْلِسُ فِي شَيْءٍ مِنْهُنَّ إِلاَّ فِي آخِرِهِنَّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَأَلْتُ أَبَا مُصْعَبٍ الْمَدِينِيَّ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُوتِرُ بِالتِّسْعِ وَالسَّبْعِ قُلْتُ كَيْفَ يُوتِرُ بِالتِّسْعِ وَالسَّبْعِ قَالَ يُصَلِّي مَثْنَى مَثْنَى وَيُسَلِّمُ وَيُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর রাতের নামাযের সংখ্যা ছিল তের রাক’আত। এর মধ্যে পাঁচ রাক’আত তিনি বিতর আদায় করতেন। এ পাঁচ রাক’আত আদায় করা শেষ করেই তিনি বসতেন। মুয়াজ্জিন আযান দিলে তিনি উঠে হালকা দুই রাক’আত নামায আদায় করতেন।
এ অনুচ্ছেদে আবূ আইউব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ‘আয়িশাহ্’র হাদীসটি হাসান সহীহ্। নবী (ﷺ)-এর কিছু বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যরা বিতর নামায পাঁচ রাক’আত হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, এর কোন রাক’আতেই বসবে না, সর্বশেষ রাক’আতে বসবে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ “নবী (ﷺ) নয় বা সাত রাক’আত বিতর পড়তেন” এই হাদীস সম্পর্কে আমি মুসআব আল-মাদীনীকে জিজ্ঞেস করলাম। আমি বললাম, তিনি কিভাবে নয় বা সাত রাক’আত বিতর পড়তেন? তিনি বললেন, দুই দুই রাক’আত করে পড়ার পর সালাম ফিরাতেন এবং শেষে এক রাক’আত বিতর পড়তেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের নামাজের সংখ্যা ছিল তের রাকাত। এর মধ্যে পাঁচ রাকাত তিনি বিতর আদায় করতেন। এই পাঁচ রাকাতের মধ্যে শেষ ছাড়া কোথাও বসতেন না। মুয়াজ্জিন আজান দিলে তিনি উঠে হালকা দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। কোর টপিক হলো পাঁচ রাকাত বিতর ও রাতের নামাজ। এখানে রাতের নামাজ, বিতরের পদ্ধতি এবং ফজরের আগে হালকা দুই রাকাত—এই তিনটি বিষয় এসেছে। তবে হাদিসে যতটুকু বলা হয়েছে, ব্যাখ্যাও ততটুকুতেই সীমিত রাখা উচিত। যারা “পাঁচ রাকাত বিতর কীভাবে” বা “নবীজির রাতের নামাজ তের রাকাত” খুঁজেন, তাদের জন্য এই বর্ণনা সরাসরি তথ্য দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের নামাজ তের রাকাত বলা হয়েছে।
- এর মধ্যে পাঁচ রাকাত বিতরের কথা এসেছে।
- পাঁচ রাকাতের শেষ ছাড়া বসার কথা নেই বলে বর্ণিত হয়েছে।
