৩/২১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৮৪ - বেশি দরুদ পাঠের মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি দুরূদ পাঠের ফজিলত
বেশি দরুদ পাঠ ও কেয়ামতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নৈকট্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৮৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৮৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، بُنْدَارٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ ابْنُ عَثْمَةَ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ يَعْقُوبَ الزَّمْعِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ كَيْسَانَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ شَدَّادٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَىَّ صَلاَةً " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ " مَنْ صَلَّى عَلَىَّ صَلاَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا وَكَتَبَ لَهُ بِهَا عَشْرَ حَسَنَاتٍ " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কেয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে যে আমার প্রতি বেশি পরিমাণে দরূদ পাঠ করেছে।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে আরও বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ্ তা’আলা তার প্রতি দশটি রাহমাত বর্ষণ করেন এবং তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখে দেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি বেশি দরুদ পাঠের একটি বিশেষ মর্যাদা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানিয়েছেন, কেয়ামতের দিন তাঁর নিকটতম মানুষ হবে তাদের মধ্য থেকে, যারা তাঁর প্রতি বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ করেছে। এখানে ‘বেশি’ শব্দটি দরুদকে নিয়মিত জীবনের অংশ করার উৎসাহ দেয়। দরুদ পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহর কাছে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য রহমত ও বরকত চান। হাদিসটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সময় বেঁধে দেয়নি। তাই এর মূল শিক্ষা হলো সুযোগ অনুযায়ী নিয়মিত দরুদ পাঠ করা। তবে শুধু মুখে পড়ার পাশাপাশি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং তাঁর শেখানো সত্য পথের প্রতি যত্ন রাখাও দরুদের ভাবনার সঙ্গে মানানসই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ কেয়ামতের দিন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নৈকট্যের কারণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- দরুদকে নিয়মিত আমলে পরিণত করার উৎসাহ পাওয়া যায়।
- হাদিসে দরুদ পাঠের কোনো নির্দিষ্ট দৈনিক সংখ্যা ঠিক করা হয়নি।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে দরুদ পাঠ করা উচিত।
