৪/৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৯৮ - খুতবা শোনার আদব ও ক্ষমা
জুমু‘আর দিনে ওযু করা
জুমার খুতবা নীরবে শোনার নিয়ম ও ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৯৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৯৮
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَدَنَا وَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ وَمَنْ مَسَّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ভালোভাবে ওজু করে জুমু‘আর নামাজ আদায় করতে আসে, ইমামের নিকটবর্তী হয়ে মনোযোগ সহকারে নীরবে খুতবা শুনে, তার এ জুমু‘আ হতে ঐ জুমু‘আ পর্যন্ত এবং আরো তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি কাঁকর-বালি ইত্যাদি নাড়াচাড়া করল সে বাজে কাজ করল।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার নামাজে উপস্থিত হওয়ার কয়েকটি আদব শেখানো হয়েছে। প্রথমে ভালোভাবে ওজু করতে হবে। এরপর জুমায় এসে ইমামের নিকটবর্তী হয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে এবং নীরব থাকতে হবে। এসব কাজ করলে এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত এবং আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমার কথা বলা হয়েছে। হাদিসের শেষ অংশে কাঁকর বা বালি নেড়েচেড়ে অমনোযোগী হওয়াকেও বাজে কাজ বলা হয়েছে। তখনকার পরিবেশে মসজিদের মেঝেতে কাঁকর থাকতে পারত; মূল বার্তা হলো খুতবার সময় অকারণ খেলাধুলা বা ব্যস্ততা এড়িয়ে চলা। বর্তমান সময়েও ফোন দেখা, জিনিস নিয়ে নাড়াচাড়া করা বা মন অন্যদিকে রাখা এই শিক্ষার বিপরীত হতে পারে। তবে ক্ষমার বিষয়টি হাদিসে বর্ণিত শর্তগুলোর সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমায় যাওয়ার আগে সুন্দরভাবে ওজু করা উচিত।
- ইমামের কাছে বসে নীরবে ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে হবে।
- উল্লেখিত আদব মানলে এক জুমা থেকে পরের জুমা ও আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমার কথা এসেছে।
- খুতবার সময় অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া ও খেলায় ব্যস্ত হওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
