৪/২০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫১৭ - মিম্বর থেকে নামার পর প্রয়োজনের কথা
জুমু‘আর আযান সম্পর্কে
খুতবার পর কথা বলা: বর্ণনার শব্দ ও সনদগত সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৫১৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫১৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُكَلَّمُ بِالْحَاجَةِ إِذَا نَزَلَ عَنِ الْمِنْبَرِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ وَهِمَ جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَالصَّحِيحُ مَا رُوِيَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَأَخَذَ رَجُلٌ بِيَدِ النَّبِيِّ ﷺ فَمَا زَالَ يُكَلِّمُهُ حَتَّى نَعَسَ بَعْضُ الْقَوْمِ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَالْحَدِيثُ هُوَ هَذَا . وَجَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ رُبَّمَا يَهِمُ فِي الشَّىْءِ وَهُوَ صَدُوقٌ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَهِمَ جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ فِي حَدِيثِ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي " . قَالَ مُحَمَّدٌ وَيُرْوَى عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ فَحَدَّثَ حَجَّاجٌ الصَّوَّافُ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي " . فَوَهِمَ جَرِيرٌ فَظَنَّ أَنَّ ثَابِتًا حَدَّثَهُمْ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মিম্বার হতে নামতেন তখন প্রয়োজনবোধে কথা বলতেন।
আমি (তিরমিযী) এ হাদীসটি কেবলমাত্র জারীর ইবনু হাযিমের সূত্রে জানতে পেরেছি। আমি মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, জারীর ইবনু হাযিম এ হাদীসে সংশয়ে পড়ে গেছেন। আনাসের সূত্রে সাবিত যে বর্ণনা করেছেন সেটাই সহীহ্। তাতে আছেঃ “নামাযের জন্য ইকামাত দেওয়া হল। এমন সময় এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর হাত ধরে কথা বলতে থাকল। এমনকি লোকেরা নিদ্রার আবেশে আচ্ছন্ন হতে লাগল”। মুহাম্মাদ বলেন, আসলে হাদীস হল এটি। কখনও কখনও জারীর ইবনু হাযিম অনুমানে লিপ্ত হন কিন্তু তিনি সত্যবাদী। যেমন এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “নামাযের জন্য ইকামাত হয়ে গেলেও আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা নামাযে দাঁড়াবে না”। জারীরের বর্ণিত সনদের পরিপ্রেক্ষিতে এ হাদীসটি ভুল কিন্তু অন্য সনদে সহীহ্ হাদীস। তিনি রাবীদের সনদ বর্ণনায় ত্রুটি করে ফেলেন। যেমন হাদীসটি হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ সাবিত আল-বুনানীর উপস্থিতিতে ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদা হতে, তিনি তাঁর পিতা আবূ কাতাদা (রাঃ) -এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু জারীর সংশয়ের বশবর্তী হয়ে আনাস (রাঃ) –এর সূত্রে বর্ণিত বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫১৭-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: প্রয়োজনীয় কথা। অনুবাদে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মিম্বর থেকে নামার পর প্রয়োজন হলে কথা বলতেন। কিন্তু একই আরবি পাঠের বিশদ সমালোচনায় ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারীর বক্তব্য এসেছে যে, জারীর ইবন হাযিম এ বর্ণনায় ভুল করেছেন। তাঁর মতে সঠিক বর্ণনা হলো: নামাজের ইকামত হওয়ার পর এক ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে কথা বলতে থাকেন, এমনকি অপেক্ষমাণ কিছু লোক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তাই এই হাদিসকে কেবল ‘খুতবার পর কথা বলা সুন্নত’ বলে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। মূল পাঠের অনুবাদ এবং মুহাদ্দিসের সংশোধন—দুটিই জানাতে হবে। এতে হাদিস যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে: শুধু প্রথম বাক্য নয়, সনদ ও বিশেষজ্ঞের মন্তব্যও পড়তে হয়। প্রয়োজনের কথা বলার বিষয়টি সংশোধিত বর্ণনায় ইকামতের পরের ঘটনার সঙ্গে বেশি নির্ভরযোগ্যভাবে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অনুবাদে মিম্বর থেকে নামার পর প্রয়োজনীয় কথা বলার বিষয় এসেছে।
- একই পাঠে মুহাদ্দিস জারীর ইবন হাযিমের শব্দচয়নকে ভুল বলেছেন।
- সঠিক বর্ণনা হিসেবে ইকামতের পর এক ব্যক্তির দীর্ঘ কথোপকথন উল্লেখ হয়েছে।
- হাদিস বোঝার সময় মূল বক্তব্যের সঙ্গে মুহাদ্দিসের সমালোচনাও পড়া জরুরি।
