১/৪৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬১ - এক ওজুতে একাধিক নামাজের বিধান
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একই ওজুতে সকল নামাজ আদায় করেছেন
এক ওজুতে একাধিক নামাজ: ওজু ও মোজার উপর মাসেহের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ فَلَمَّا كَانَ عَامُ الْفَتْحِ صَلَّى الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ . فَقَالَ عُمَرُ إِنَّكَ فَعَلْتَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ فَعَلْتَهُ . قَالَ «عَمْدًا فَعَلْتُهُ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَلِيُّ بْنُ قَادِمٍ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَزَادَ فِيهِ " تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً " . قَالَ وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ أَيْضًا عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ . وَرَوَاهُ وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ . قَالَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ وَغَيْرُهُ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مُرْسَلاً وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ وَكِيعٍ .وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ مَا لَمْ يُحْدِثْ وَكَانَ بَعْضُهُمْ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ اسْتِحْبَابًا وَإِرَادَةَ الْفَضْلِ . وَيُرْوَى عَنِ الإِفْرِيقِيِّ عَنْ أَبِي غُطَيْفٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَنْ تَوَضَّأَ عَلَى طُهْرٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهِ عَشْرَ حَسَنَاتٍ». وَهَذَا إِسْنَادٌ ضَعِيفٌ .وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ .
সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রহঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
তিনি (বুরাইদা) বলেন, নবী (ﷺ) প্রতি ওয়াক্তের নামাজের জন্য নতুনভাবে ওজু করতেন। তিনি মক্কা বিজয়ের দিন একই ওজু দিয়ে সব ওয়াক্তের নামাজ আদায় করলেন এবং মোজার উপর মাসেহ করলেন। ‘উমর (রাঃ) বললেনঃ আপনি এমন একটি কাজ করলেন যা ইতোপূর্বে কখনও করেননি। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি ইচ্ছা করেই এটা করলাম।
আবূ ‘ঈসা বলেন : হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি ‘আলী ইবনু কাদিম – সুফিয়ান সাওরীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাতে এ কথাটুকুও আছে, “তিনি একবার একবার ওজু করেছেন। ” সুফিয়ান সাওরী তাঁর সনদ পরম্পরায় বুরাইদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নবী (ﷺ) প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজের জন্যই নতুনভাবে ওজু করতেন। ওয়াকী‘ও তাঁর সনদ পরম্পরায় বুরাইদার এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহমান ইবনুল মাহদী ও অন্যরা অপর এক সনদ পরম্পরায় এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনাটি ওয়াকী‘র বর্ণনার তুলনায় বেশি সহীহ। বিদ্বানদের মতামত হল ওজু যে পর্যন্ত নষ্ট না হবে, সে পর্যন্ত একই ওজুতে একাধিক ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা যাবে। তাদের কেউ কেউ ফজিলত লাভের আশায় প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুনভাবে ওজু করাটা মুস্তাহাব মনে করেছেন। আফরীকী হতে বর্ণিত আছে, তিনি গুতাইফ হতে তিনি ইবনু উমার হতে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) বলেন : “যে ব্যক্তি ওজু থাকা অবস্থায় ওজু করে আল্লাহ তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখেন। ” –এর সনদ যঈফ। এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত একটি হাদীস রয়েছে : “নবী (ﷺ) একই ওজুতে যুহর এবং আসরের নামাজ আদায় করেছেন। ”
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওজুর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সহজ দিক পরিষ্কার হয়েছে। বর্ণনায় এসেছে, নবী (صلى الله عليه وسلم) সাধারণত প্রতি নামাজের জন্য নতুনভাবে ওজু করতেন। কিন্তু মক্কা বিজয়ের দিন তিনি একই ওজু দিয়ে সব ওয়াক্তের নামাজ আদায় করেন এবং মোজার উপর মাসেহ করেন। উমর (রাঃ) বিষয়টি লক্ষ্য করে জানতে চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি ইচ্ছা করেই এটি করেছেন। এতে বোঝা যায়, ওজু নষ্ট না হলে এক ওজুতে একাধিক নামাজ পড়া যায়। একই সঙ্গে মোজার উপর মাসেহ করার বিধানও এই হাদিসে এসেছে। তাই ওজুর বিধান বুঝতে গেলে শুধু অভ্যাস নয়, নবীজির দেখানো সহজ পথও জানা দরকার। এই শিক্ষা মানুষকে অযথা কষ্ট থেকে বাঁচায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওজু নষ্ট না হলে একই ওজুতে একাধিক নামাজ আদায় করা যায়।
- মোজার উপর মাসেহ করার বিষয়টি এই বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) কখনো কোনো কাজ ইচ্ছা করে করতেন, যাতে উম্মত সহজ বিধান বুঝতে পারে।
- নতুন ওজু করা ভালো আমল হতে পারে, তবে তা সব সময় বাধ্যতামূলক নয়।
