৫/১৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৪৬ - যাকাত সংগ্রহে সীমা লঙ্ঘনের পরিণতি
যাকাত আদায়ে সীমা লঙ্ঘনকারী
যাকাত সংগ্রহে সীমা লঙ্ঘন ও অন্যায়ের সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬৪৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৪৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " الْمُعْتَدِي فِي الصَّدَقَةِ كَمَانِعِهَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ تَكَلَّمَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ . وَهَكَذَا يَقُولُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . وَيَقُولُ عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ وَابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَنَسٍ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ وَالصَّحِيحُ سِنَانُ بْنُ سَعْدٍ . وَقَوْلُهُ " الْمُعْتَدِي فِي الصَّدَقَةِ كَمَانِعِهَا " يَقُولُ عَلَى الْمُعْتَدِي مِنَ الإِثْمِ كَمَا عَلَى الْمَانِعِ إِذَا مَنَعَ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাকাত সংগ্রহে সীমা লঙ্ঘনকারী যাকাত আদায়ে বাধা দানকারীর (অস্বীকারকারীর) মতই।
ইবনু উমার, উম্মু সালামা ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে উল্লিখিত সনদে গারীব বলেছেন। আহ্মাদ ইবনু হাম্বাল এ হাদীসের এক বর্ণনাকারী সা’দ ইবনু সিনানের সমালোচনা করেছেন। লাইস ইবনু সা'দ হাদীসের সনদ এভাবে বলেছেনঃ ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব সা’দ ইবনু সিনান হতে তিনি আনাস ইবনু মালিক হতে। আর আমর ইবনুল হারিস সনদ বর্ণনা করেছেন এভাবে, ইবনু লাহীআ ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব হতে, তিনি সিনান ইবনু সা’দ হতে তিনি আনাস হতে। ইমাম বুখারী বলেছেন, সা’দ ইবনু সিনান সঠিক নয়; বরং সিনান ইবনু সা’দ হবে। তিনি আরো বলেন, যে লোক যাকাত আদায় করে না তার যে গুনাহ হবে, অনুরূপ যে লোক যাকাত আদায় করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে সে লোকেরও একইরকম গুনাহ হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাকাত সংগ্রহকারীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। যে ব্যক্তি যাকাত নেওয়ার সময় নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাকে যাকাত দিতে অস্বীকারকারী ব্যক্তির মতো বলা হয়েছে। হাদিসের ব্যাখ্যায় পরিষ্কার করা হয়েছে, উভয়ের অপরাধের ধরন আলাদা হলেও সীমা লঙ্ঘনকারীও গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ যাকাত না দেওয়া যেমন অন্যায়, তেমনি যাকাতের নামে প্রাপ্যের চেয়ে বেশি নেওয়াও অন্যায়। যাকাত সংগ্রহকারী ক্ষমতা পেয়েছেন বলে মানুষের সম্পদে ইচ্ছামতো হাত দিতে পারেন না। তাকে সঠিক হিসাব, নির্ধারিত পরিমাণ ও ন্যায়ের সীমা মেনে চলতে হবে। এই হাদিস যাকাত ব্যবস্থায় দুই পক্ষের ভারসাম্য রক্ষা করে—সম্পদশালী ব্যক্তি প্রাপ্য যাকাত দেবেন এবং সংগ্রহকারী কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করবেন না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাকাতের নির্ধারিত পরিমাণের বেশি নেওয়া সীমা লঙ্ঘন।
- যাকাত আটকে রাখা এবং যাকাত সংগ্রহে অন্যায়—দুটিই গুনাহের কাজ।
- দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
- যাকাত আদায়ে সঠিক হিসাব ও ন্যায় বজায় রাখা জরুরি।
