৫/৩৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৭৬ - মুসলিমদের ওপর রমজানের ফিতরা
সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরা)
রমজানের ফিতরা: মুসলিম নারী-পুরুষ সবার দায়িত্ব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬৭৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৭৬
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى مِنَ الْمُسْلِمِينَ .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَ حَدِيثِ أَيُّوبَ وَزَادَ فِيهِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ . وَرَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ نَافِعٍ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ .وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا كَانَ لِلرَّجُلِ عَبِيدٌ غَيْرُ مُسْلِمِينَ لَمْ يُؤَدِّ عَنْهُمْ صَدَقَةَ الْفِطْرِ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُؤَدِّي عَنْهُمْ وَإِنْ كَانُوا غَيْرَ مُسْلِمِينَ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَإِسْحَاقَ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুসলমান মুক্ত অথবা গোলাম, পুরুষ অথবা স্ত্রীলোক নির্বিশেষে সকলের উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সা’ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ যব রামাযান মাসের ফিত্রা হিসাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। মালিক নাফি হতে, তিনি ইবনু উমর হতে তিনি নাবী (ﷺ) হতে আইয়ূবের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন এবং তাতে তিনি মুসলিমীন শব্দের উল্লেখ করেছেন। এই হাদীসটি আরও অনেকে নাফি হতে বর্ণনা করেছেন তবে তারা মুসলিমীন শব্দের উল্লেখ করেননি। ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহ্মাদ বলেন, কারো নিকটে কাফির দাস থাকলে তার জন্য ফিতরা আদায় করতে হবে না। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও ইসহাক বলেন, কাফির গোলাম হলেও তার জন্য ফিতরা আদায় করতে হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজান মাসের সদকাতুল ফিতর নির্ধারণের কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মুসলিমদের মধ্যে প্রত্যেক স্বাধীন ব্যক্তি ও দাস, পুরুষ ও নারীর ওপর এক সা খেজুর অথবা এক সা যব নির্ধারণ করেছেন। বর্ণনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো ‘মুসলিমদের মধ্যে’। তাই এর মূল বিষয় শুধু পরিমাণ নয়; কাদের জন্য এই দায়িত্ব তা-ও স্পষ্ট করা হয়েছে। এখানে বয়সের কথা সরাসরি অনুবাদে নেই, তাই ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত শ্রেণি যোগ না করে দেওয়া তথ্যেই থাকা ভালো। ‘এক সা’ একটি নির্দিষ্ট পরিমাপ, কিন্তু আধুনিক কেজির হিসাব হাদিসে দেওয়া হয়নি। ফলে এই কনটেন্টের কেন্দ্র হবে রমজানের ফিতরা, মুসলিম নারী-পুরুষ ও স্বাধীন-দাসের অন্তর্ভুক্তি এবং খেজুর বা যবের এক সা পরিমাণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের ফিতরা মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
- স্বাধীন ব্যক্তি ও দাস—উভয় শ্রেণি বর্ণনায় অন্তর্ভুক্ত।
- পরিমাণ হিসেবে এক সা খেজুর বা এক সা যব বলা হয়েছে।
