৬/১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৮৩ - ঈমানসহ রোজা, রাতের ইবাদত ও লাইলাতুল কদর
রমযান মাসের ফজিলত
রমজানের রোজা ও লাইলাতুল কদরের ইবাদতে গুনাহ মাফের সুসংবাদ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬৮৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৮৩
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، وَالْمُحَارِبِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ». هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ الَّذِي رَوَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ .قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَوْلَهُ «إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ». فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَهَذَا أَصَحُّ عِنْدِي مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশা করে যে লোক রমযান মাসের রোযা পালন করলো এবং (ইবাদাতের উদ্দেশ্যে) রাতে জেগে রইলো, তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আর ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশা করে যে লোক লাইলাতুল কাদ্রের (ইবাদাতের জন্য) রাতে জেগে থাকে, তার পূর্ববর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
আবূ ঈসা আবূ বাক্র ইবনু আইয়াসের সূত্রে আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে গারীব বলেছেন। আমরা আমাশ-আবূ সালিহ-এর সূত্রে বর্ণিত আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর হাদীসটিকে শুধুমাত্র আবূ বাক্র ইবনু আইয়াসের মাধ্যমেই জেনেছি। আমি এ হাদীস প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, হাসান ইবনুর রাবী, আবুল আহওয়াস হতে, তিনি আমাশ হতে, তিনি মুজাহিদ হতে তাঁর বক্তব্য হিসাবে বর্ণিত রমযান মাসের প্রথম রাতে...... হাদীসের শেষ পর্যন্ত। মুহাম্মাদ বলেন, আমার নিকটে এই সনদটি আবূ বাক্র ইবনু আইয়াসের তুলনায় বেশি সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমল একসঙ্গে এসেছে: রোজা রাখা, রাতে ইবাদতের জন্য জেগে থাকা এবং লাইলাতুল কদরে ইবাদত করা। তবে শুধু কাজ করাই যথেষ্ট বলা হয়নি; দুটি মানসিক শর্তও উল্লেখ করা হয়েছে। আমলটি ঈমানের সঙ্গে করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা রাখতে হবে। এই অবস্থায় রমজানের রোজা ও রাতের ইবাদতের জন্য পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে লাইলাতুল কদরের রাতে ঈমান ও সওয়াবের আশা নিয়ে জেগে ইবাদত করলেও একই সুসংবাদ আছে। তাই এই হাদিস রমজানের ইবাদতকে অভ্যাস বা লোকদেখানো কাজ না বানিয়ে আন্তরিক বিশ্বাস ও প্রতিদানের আশা নিয়ে করার শিক্ষা দেয়। রোজা, রাতের ইবাদত এবং লাইলাতুল কদর—সব ক্ষেত্রেই নিয়ত ও অন্তরের অবস্থার গুরুত্ব স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের রোজা ঈমান ও সওয়াবের আশা নিয়ে পালন করতে হবে।
- রমজানের রাতে ইবাদতের জন্য জাগা গুনাহ ক্ষমার কারণ হতে পারে।
- লাইলাতুল কদরে আন্তরিকভাবে ইবাদত করার বিশেষ ফজিলত আছে।
- আমলের বাহ্যিক রূপের সঙ্গে অন্তরের বিশ্বাস ও আশা গুরুত্বপূর্ণ।
