৬/২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৮৪ - চাঁদ দেখে রোজা শুরু ও শেষ করার নিয়ম
রমজান মাস আসার পূর্বক্ষণে রোজা পালন করো না
চাঁদ দেখে রোজা শুরু: রমজান নির্ধারণের স্পষ্ট নিয়ম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬৮৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৮৪
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ «لاَ تَقَدَّمُوا الشَّهْرَ بِيَوْمٍ وَلاَ بِيَوْمَيْنِ إِلاَّ أَنْ يُوَافِقَ ذَلِكَ صَوْمًا كَانَ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَعُدُّوا ثَلاَثِينَ ثُمَّ أَفْطِرُوا " .رَوَى مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ بِنَحْوِ هَذَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا أَنْ يَتَعَجَّلَ الرَّجُلُ بِصِيَامٍ قَبْلَ دُخُولِ شَهْرِ رَمَضَانَ لِمَعْنَى رَمَضَانَ وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يَصُومُ صَوْمًا فَوَافَقَ صِيَامُهُ ذَلِكَ فَلاَ بَأْسَ بِهِ عِنْدَهُمْ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান মাস আসার একদিন কিংবা দুইদিন পূর্ব থেকে তোমরা (নফল) রোযা পালন করো না। হ্যাঁ, তবে তোমাদের কারো পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী রোযা পালনের দিন পড়ে গেলে সে ঐ দিনের রোযা পালন করতে পারবে। তোমরা রোযা রাখ চাঁদ দেখে এবং রোযা শেষও কর চাঁদ দেখেই। (২৯ তারিখে) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ত্রিশ দিন পুরো কর চাঁদ দেখতে না পেলে), এরপর ইফ্তার কর (রোযা শেষ কর)।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু সংখ্যক সাহাবী হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেন। তাদের মতে রমযান মাস শুরুর অব্যবহিত পূর্বে রমযানের মর্যাদার লক্ষ্যে রোযা পালন করা মাকরূহ্। তবে কোন নির্ধারিত দিনে রোযা আদায়ের পূর্ব-অভ্যাস কারো থাকলে এবং রমযানের আগের দিন সেই দিন হলে তবে এদিনে তার রোযা পালনে কোন সমস্যা নেই।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজান শুরু ও শেষ করার পরিষ্কার নিয়ম বলা হয়েছে। রমজান আসার এক বা দুই দিন আগে শুধু রমজানকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নফল রোজা রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে কারও নিয়মিত রোজার দিন ওই সময়ে পড়ে গেলে তিনি নিজের অভ্যাসের রোজা রাখতে পারেন। এরপর মূল নীতি বলা হয়েছে: রমজানের চাঁদ দেখে রোজা শুরু করতে হবে এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখে রোজা শেষ করতে হবে। মাসের ঊনত্রিশতম দিনে আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলে অনুমান করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ত্রিশ দিন পূর্ণ করতে হবে। এই নির্দেশ রোজার তারিখ নির্ধারণে তাড়াহুড়া ও সন্দেহ এড়িয়ে নিশ্চিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে শেখায়। একই সঙ্গে নিয়মিত নফল রোজার অভ্যাসকে আলাদা ব্যতিক্রম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের এক বা দুই দিন আগে ইচ্ছাকৃতভাবে আগাম রোজা শুরু করা উচিত নয়।
- নিয়মিত নফল রোজার দিন পড়ে গেলে সেই রোজা রাখা যায়।
- চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান শুরু ও শেষ করতে হবে।
- মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না গেলে মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করতে হবে।
