৬/১০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৯৬ - নামাজের আগে তাজা বা শুকনা খেজুরে ইফতার
যে সব খাদ্য সামগ্রী দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব
মাগরিবের আগে ইফতার: তাজা খেজুর, শুকনা খেজুর বা পানি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬৯৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৯৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ «كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُفْطِرُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَى رُطَبَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ رُطَبَاتٌ فَتُمَيْرَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تُمَيْرَاتٌ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ» . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .قَالَ أَبُو عِيسَى وَرُوِيَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يُفْطِرُ فِي الشِّتَاءِ عَلَى تَمَرَاتٍ وَفِي الصَّيْفِ عَلَى الْمَاءِ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মাগরিবের) নামাজ আদায়ের পূর্বেই কয়েকটা তাজা খেজুর দ্বারা ইফ্তার করতেন। তিনি তাজা খেজুর না পেলে কয়েকটা শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন আর শুকনো খেজুরও না পেলে তবে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।
এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। অপর বর্ণনায় আছেঃ শীতের সময় শুকনো খেজুর দ্বারা এবং গ্রীষ্মের সময় পানি দ্বারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইফ্তার করতেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইফতারের বাস্তব পদ্ধতি বলা হয়েছে। তিনি মাগরিবের নামাজের আগে কয়েকটি তাজা খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙতেন। তাজা খেজুর না থাকলে কয়েকটি শুকনা খেজুর খেতেন। শুকনা খেজুরও না পাওয়া গেলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন। এখানে তিন ধাপের একটি সহজ ক্রম দেখা যায়: তাজা খেজুর, তারপর শুকনা খেজুর, তারপর পানি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি নামাজের আগে ইফতার করতেন। অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর রোজা ভাঙতে অযথা দেরি করতেন না। হাদিসটি ইফতারের সুন্নত পদ্ধতি জানতে সাহায্য করে এবং দেখায় যে অল্প কিছু খেজুর বা পানি দিয়েও ইফতার শুরু করা যায়। বড় খাবার পরে হলেও রোজা ভাঙা আগে করা সম্ভব। এই ধারাবাহিকতা দেখায়, সুন্নত মানতে সহজলভ্য খাবারই যথেষ্ট এবং ইফতারকে কঠিন করে তোলার প্রয়োজন নেই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মাগরিবের নামাজের আগে ইফতার করা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল ছিল।
- তাজা খেজুর প্রথম পছন্দ, না থাকলে শুকনা খেজুর নেওয়া যায়।
- কোনো খেজুর না থাকলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে ইফতার করা যায়।
- অল্প খাবার দিয়েই দ্রুত ও সহজভাবে রোজা ভাঙা সম্ভব।
