৬/২৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭২০ - বমি হলে রোজার কাযা
যে লোক (রোজা থাকাবস্থায়) ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে
বমি হলে রোজা ভাঙে কি: ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত অবস্থার পার্থক্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭২০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭২০
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " مَنْ ذَرَعَهُ الْقَىْءُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ قَضَاءٌ وَمَنِ اسْتَقَاءَ عَمْدًا فَلْيَقْضِ " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَثَوْبَانَ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ. قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ هِشَامٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عِيسَى بْنِ يُونُسَ. وَقَالَ مُحَمَّدٌ لاَ أَرَاهُ مَحْفُوظًا.قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَلاَ يَصِحُّ إِسْنَادُهُ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَثَوْبَانَ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَاءَ فَأَفْطَرَ. وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ صَائِمًا مُتَطَوِّعًا فَقَاءَ فَضَعُفَ فَأَفْطَرَ لِذَلِكَ. هَكَذَا رُوِيَ فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ مُفَسَّرًا . وَالْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّ الصَّائِمَ إِذَا ذَرَعَهُ الْقَىْءُ فَلاَ قَضَاءَ عَلَيْهِ وَإِذَا اسْتَقَاءَ عَمْدًا فَلْيَقْضِ. وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোকের রোজা থাকাবস্থায় বমি হলে সে লোককে ঐ রোজার কাজা আদায় করতে হবে না। কিন্তু কোন লোক ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে তাকে কাজা রোজা আদায় করতে হবে।
আবূ দারদা, সাওবান ও ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান গারীব বলেছেন। এই হাদীসটি ঈসা ইবনু ইউনুসের সূত্র ছাড়া হিশাম ইবনু সীরীন-এর সূত্রে আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। মুহাম্মাদ বুখারী বলেন, আমি ঈসা ইবনু ইউনুসকে একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী বলে মনে করি না। আবূ ঈসা বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। কিন্তু এর সনদগুলো সহীহ্ নয়। আবূ দারদা, সাওবান ও ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বমি করলেন এবং রোজা পালন করা ছেড়ে দিলেন।” এ হাদীসের মর্ম হল এই যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নফল রোজা পালন করছিলেন। বমি হওয়াতে তিনি দুর্বল হয়ে পড়ায় রোজা ভেঙ্গে ফেলেন। এ বিষয়টি কোন কোন হাদীসে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। আলিমগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে আবূ হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে বলেন, রোজাদার ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃত বমি হলে তার কোন কাজা আদায় করতে হবে না। কিন্তু কোন লোক ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে সে কাজা রোজা আদায় করবে। ইমাম শাফিঈ, সুফিয়ান সাওরী, আহ্মাদ ও ইসহাকের এই অভিমত।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বমির দুই অবস্থা আলাদা করা হয়েছে। রোজাদারের নিজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বমি হয়ে গেলে তার ওপর সেই রোজার কাযা নেই। কিন্তু কেউ ইচ্ছা করে বমি ঘটালে তাকে কাযা রোজা রাখতে হবে। এটাই বর্ণনার সরাসরি শিক্ষা। একই সঙ্গে পাঠে সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের আলোচনা আছে; আবু ঈসা একে হাসান গরিব বলেছেন, আবার ইমাম বুখারীর পক্ষ থেকে সংরক্ষিত হওয়ার বিষয়ে আপত্তির কথাও উল্লেখ হয়েছে। পরে বলা হয়েছে, একাধিক পথে বর্ণিত হলেও সনদগুলো সহিহ নয়; তবু আলিমদের আমল এই বক্তব্য অনুযায়ী হয়েছে। তাই বিষয়টি উপস্থাপনের সময় মূল বিধানের সঙ্গে সনদ-আলোচনাও সৎভাবে জানানো উচিত। তাই বক্তব্যটি মূল বিধান, সনদের আলোচনা ও আলিমদের আমল—তিন দিকসহ বুঝতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অনিচ্ছাকৃত বমি হলে কাযা করতে হবে না।
- ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে কাযা রোজা রাখতে হবে।
- পাঠে হাদিসটির সনদ নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনা আছে।
- আলিমদের আমল ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত বমির পার্থক্যের ওপর হয়েছে।
