৭/২৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৫০ - পঙ্গপাল খাওয়া ও জলজ শিকারের বর্ণনা
মুহরিমের জন্য সমুদ্রের শিকার বৈধ
পঙ্গপাল খাওয়া কি হালাল: হজ্জের সফরের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮৫০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৫০
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَزِّمِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ فَاسْتَقْبَلَنَا رِجْلٌ مِنْ جَرَادٍ فَجَعَلْنَا نَضْرِبُهُ بِسِيَاطِنَا وَعِصِيِّنَا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «كُلُوهُ فَإِنَّهُ مِنْ صَيْدِ الْبَحْرِ».قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الْمُهَزِّمِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَأَبُو الْمُهَزِّمِ اسْمُهُ يَزِيدُ بْنُ سُفْيَانَ وَقَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ شُعْبَةُ . وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ لِلْمُحْرِمِ أَنْ يَصِيدَ الْجَرَادَ وَيَأْكُلَهُ وَرَأَى بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ صَدَقَةً إِذَا اصْطَادَهُ وَأَكَلَهُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে হজ্জ অথবা ‘উমরাহ্ করতে বের হলাম। আমাদের সামনে এক ঝাঁক পঙ্গপাল এসে পড়ল। আমরা আমাদের চাবুক ও ছড়ি দিয়ে এগুলো মারতে শুরু করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এটা তোমরা খেতে পার। কারণ এটা জলজ শিকারের অন্তর্ভুক্ত।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আবুল মুহায্যিম ব্যতীত এটিকে আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে আর কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবুল মুহায্যিমের নাম ইয়াযীদ ইবনু সুফিয়ান। শুবা তার সমালোচনা করেছেন। একদল ‘আলিম মুহ্রিমের জন্য পঙ্গপাল শিকার করা এবং তা খাওয়ার সম্মতি দিয়েছেন। অন্য একদল ‘আলিম বলেছেন, তা শিকার করলে বা খেলে মুহ্রিমের উপর সাদাকা (দম) নির্ধারিত হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৫০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: পঙ্গপাল খাওয়া। এই হাদিসে আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, তাঁরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। পথে এক ঝাঁক পঙ্গপাল সামনে এলে তাঁরা চাবুক ও লাঠি দিয়ে সেগুলো মারতে থাকেন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাদের পঙ্গপাল খেতে বলেন এবং বর্ণনায় এটিকে জলজ শিকারের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। তাই পঙ্গপাল খাওয়া কি হালাল বা ইহরামে পঙ্গপাল শিকার বিষয়ে এই হাদিসের সরাসরি বক্তব্য হলো, ওই ঘটনার পঙ্গপাল খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আরবি পাঠের শেষে বর্ণনাটিকে গরিব বলা হয়েছে এবং একজন বর্ণনাকারী সম্পর্কে সমালোচনার কথাও আছে। তাই মূল বক্তব্যের পাশাপাশি বর্ণনার এই মন্তব্যও মনে রাখা দরকার। এখানে অন্য প্রাণী বা সাধারণ খাদ্যবিধান নিয়ে অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত যোগ করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জ বা উমরার সফরে সাহাবিরা পঙ্গপালের ঝাঁকের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ওই পঙ্গপাল খেতে বলেছিলেন।
- বর্ণনায় পঙ্গপালকে জলজ শিকারের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে।
- পাঠের শেষে হাদিসটির বর্ণনাগত মন্তব্যও উল্লেখ আছে।
