৭/৪৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৭১ - উলঙ্গ তাওয়াফ নিষেধ ও চারটি ঘোষণা
উলঙ্গ অবস্থায় তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ
উলঙ্গ তাওয়াফ নিষেধ: আলী (রাঃ)-এর চারটি ঘোষণা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮৭১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৭১
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أُثَيْعٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَلِيًّا بِأَىِّ شَيْءٍ بُعِثْتَ قَالَ بِأَرْبَعٍ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلاَّ نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ وَلاَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ وَلاَ يَجْتَمِعُ الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَذَا وَمَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّبِيِّ ﷺ عَهْدٌ فَعَهْدُهُ إِلَى مُدَّتِهِ وَمَنْ لاَ مُدَّةَ لَهُ فَأَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ .
যাইদ ইবনু উসাই (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আলী (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলাম, কি বিষয় সহকারে আপনাকে (নবম হিজরীতে মক্কায়) পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন, চারটি বিষয় (ঘোষণা করার জন্য)। মুসলিম ছাড়া আর কোন লোক জান্নাতে যাবে না; কোন লোক উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না; এইখানে (কা'বা শারীফে) মুসলিম ও মুশরিকগণ এই বছরের পর একত্র হতে পারবে না এবং যে সব লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চুক্তি আছে সে সব লোকের চুক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, কিন্তু যে সব লোকের চুক্তিতে কোন মেয়াদের উল্লেখ নেই সে সব লোকের চুক্তির মেয়াদ (আজ হতে) চার মাস পর্যন্ত।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৭১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: হজের ঘোষণা। আলী (রাঃ) জানান, তাঁকে চারটি বিষয় ঘোষণা করতে পাঠানো হয়েছিল। প্রথমত, মুসলিম ব্যক্তি ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। দ্বিতীয়ত, কোনো ব্যক্তি উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না। তৃতীয়ত, ঐ বছরের পর কাবা শরিফে মুসলিম ও মুশরিকরা একসঙ্গে সমবেত হবে না। চতুর্থত, যাদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি ছিল, তা মেয়াদ পর্যন্ত বহাল থাকবে। আর যাদের চুক্তিতে কোনো সময় উল্লেখ ছিল না, তাদের জন্য চার মাসের সময় নির্ধারণ করা হয়। হাদিসটি চারটি আলাদা ঘোষণা একসঙ্গে বহন করে। তাই শুধু উলঙ্গ তাওয়াফের নিষেধ তুলে ধরে অন্য বিষয় বাদ দিলে বর্ণনা অসম্পূর্ণ হয়। একইভাবে চুক্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট মেয়াদের পার্থক্যও ঠিকভাবে উল্লেখ করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
- ঐ বছরের পর মুসলিম ও মুশরিকদের একসঙ্গে সমবেত না হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি তার মেয়াদ পর্যন্ত বহাল রাখার নির্দেশ ছিল।
- মেয়াদহীন চুক্তির জন্য চার মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।
