৭/৫৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৮৪ - আরাফাতে সবার সঙ্গে অবস্থান
আরাফাতে অবস্থান এবং সেখানে দোয়া করা
আরাফাতে অবস্থান: হজে আলাদা মর্যাদার দাবি নয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮৮৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৮৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطُّفَاوِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ قُرَيْشٌ وَمَنْ كَانَ عَلَى دِينِهَا وَهُمُ الْحُمْسُ يَقِفُونَ بِالْمُزْدَلِفَةِ يَقُولُونَ نَحْنُ قَطِينُ اللَّهِ . وَكَانَ مَنْ سِوَاهُمْ يَقِفُونَ بِعَرَفَةَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى : (ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ ) .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ أَهْلَ مَكَّةَ كَانُوا لاَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْحَرَمِ وَعَرَفَةُ خَارِجٌ مِنَ الْحَرَمِ وَأَهْلُ مَكَّةَ كَانُوا يَقِفُونَ بِالْمُزْدَلِفَةِ وَيَقُولُونَ نَحْنُ قَطِينُ اللَّهِ يَعْنِي سُكَّانَ اللَّهِ وَمَنْ سِوَى أَهْلِ مَكَّةَ كَانُوا يَقِفُونَ بِعَرَفَاتٍ . فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: (ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ ) . وَالْحُمْسُ هُمْ أَهْلُ الْحَرَمِ .
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কুরাইশ এবং তাদের ধর্মের যারা অনুসারী ছিল তাদেরকে হুম্স বলা হত। তারা মুযদালিফায় অবস্থান করত এবং বলত, আমরা আল্লাহর ঘরের অধিবাসী। তারা ব্যতীত অন্য লোকেরা আরাফাতে অবস্থান করত।আল্লাহ্ তাআলা এই বিষয়ে আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “অতঃপর যেখান হতে লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন কর” (সূরাঃ বাকারা-১৯৯)।
এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান সহীহ বলেছেন। হাদীসটির তাৎপর্য এই যে, মক্কাবাসীরা (হজ্জের সময়) হারাম শারীফের বাইরে বের হত না। হারাম শারীফের বাইরে আরাফাতের ময়দান অবস্থিত। তাই তারা মুযদালিফায় অবস্থান করত এবং আল্লাহ্র ঘরের অধিবাসী বলে (গর্ববোধের) নিজদেরকে পরিচয় দিত। আরাফাতে তারা ব্যতীত অন্যান্য লোক থাকত। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ “অতঃপর লোকেরা যেখান হতে প্রত্যাবর্তন করে তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন কর”। “হুমস” হল হারামবাসী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরাইশ ও তাদের অনুসারীদের একটি পুরোনো রীতি তুলে ধরা হয়েছে। তাদের ‘হুমস’ বলা হতো। তারা নিজেদের আল্লাহর ঘরের অধিবাসী মনে করে আরাফাতে না গিয়ে মুযদালিফায় অবস্থান করত। অন্য লোকেরা আরাফাতে অবস্থান করত। এরপর আল্লাহর আয়াত নাজিল হয়—লোকেরা যেখান থেকে ফিরে আসে, তোমরাও সেখান থেকে ফিরে আসো। হাদিসের মূল বিষয় হলো ‘আরাফাতে অবস্থান’ এবং হজের আমলে সবার জন্য একই পথ অনুসরণ করা। এখানে বংশ, এলাকা বা বিশেষ পরিচয়ের কারণে আলাদা নিয়ম ধরে রাখার সুযোগ বাতিল হয়েছে। ‘হুমস কারা’, ‘কুরাইশ কেন আরাফাতে যেত না’ এবং ‘আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন’—এসব প্রশ্নের সহজ উত্তর এই বর্ণনায় পাওয়া যায়। এভাবে হজের আমলে গোষ্ঠীগত আলাদা মর্যাদার দাবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজে বিশেষ বংশ বা এলাকার নামে আলাদা অবস্থান-পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়নি।
- কুরাইশকেও অন্য হাজিদের মতো আরাফাত থেকে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।
- আল্লাহর নির্দেশ পুরোনো গোষ্ঠীগত রীতির ওপর প্রাধান্য পায়।
