৭/৫৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৮৩ - হজের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান
আরাফাতে অবস্থান এবং সেখানে দোয়া করা
হজের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান ও ইবরাহিমি উত্তরাধিকার
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮৮৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৮৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ شَيْبَانَ، قَالَ أَتَانَا ابْنُ مِرْبَعٍ الأَنْصَارِيُّ وَنَحْنُ وُقُوفٌ بِالْمَوْقِفِ مَكَانًا يُبَاعِدُهُ عَمْرٌو - فَقَالَ إِنِّي رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِلَيْكُمْ يَقُولُ «كُونُوا عَلَى مَشَاعِرِكُمْ فَإِنَّكُمْ عَلَى إِرْثٍ مِنْ إِرْثِ إِبْرَاهِيمَ» .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَجُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ وَالشَّرِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ الثَّقَفِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ مِرْبَعٍ الأَنْصَارِيِّ حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ . وَابْنُ مِرْبَعٍ اسْمُهُ يَزِيدُ بْنُ مِرْبَعٍ الأَنْصَارِيُّ وَإِنَّمَا يُعْرَفُ لَهُ هَذَا الْحَدِيثُ الْوَاحِدُ .
ইয়াযীদ ইবনু শাইবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু মিরবা আনসারী (রাঃ) আমাদের নিকটে আসলেন। আরাফাতের এমন এক জায়গায় আমরা অবস্থান করছিলাম যাকে আমর (রাঃ) (ইমামের স্থান হতে) বহু দূর বলে মনে করছিলেন। ইবনু মিরবা আনসারী (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতিনিধি হিসাবে আমি তোমাদের নিকটে এসেছি। তিনি বলেছেনঃ হজ্জের নির্ধারিত স্থানসমূহে তোমরা অবস্থান কর। কারণ, তোমরা ইবরাহীম (আঃ)-এর ওয়ারিসী প্রাপ্ত হয়েছ।
আলী, আইশা, জুবাইর ইবনু মুতইম ও শারদ ইবনু সুওয়াইদ সাকাফী (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। আমরা হাদীসটি প্রসঙ্গে শুধু ইবনু উআইনা হতে-আমর ইবনু দীনারের সূত্রেই জানতে পারি। ইবনু মিরবার নাম ইয়াযীদ আনসারী। এই একটি হাদীসই তাঁর সূত্রে বর্ণিত আছে বলে জানা যায়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো হজের নির্ধারিত স্থানগুলোতে অবস্থান করা। বর্ণনায় দেখা যায়, কিছু লোক আরাফাতের এমন জায়গায় অবস্থান করছিলেন, যেটিকে ইমামের স্থান থেকে অনেক দূরে মনে করা হচ্ছিল। তখন ইবনু মিরবাআ আনসারী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতিনিধি হিসেবে এসে বলেন, তোমরা নিজেদের হজের নির্ধারিত স্থানেই থাকো। তিনি আরও জানান, এই স্থানগুলোর সঙ্গে ইবরাহিম (আঃ)-এর উত্তরাধিকার জড়িত। এখানে ‘আরাফাতে অবস্থান’, ‘হজের মাশায়ের’ এবং ‘হজের নির্ধারিত স্থান’—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে। হাদিসটি শেখায়, দূরত্বের ধারণা বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে নির্ধারিত হজের স্থান ছেড়ে না দিয়ে, যে সীমার মধ্যে অবস্থান বৈধ বলা হয়েছে সেখানেই থাকা উচিত। তাই হাজিকে নির্ধারিত সীমা বুঝে সেই সীমার মধ্যেই অবস্থান করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর সীমার মধ্যে অবস্থান করতে হবে।
- আরাফাতের বৈধ অবস্থানস্থল শুধু ইমামের খুব কাছের জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়।
- হজের এসব স্থান ইবরাহিম (আঃ)-এর রেখে যাওয়া ধারার অংশ হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
