৭/৬৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯০১ - জামরা আকাবায় কঙ্কর মারার সুন্নতি নিয়ম
জামরায় কিভাবে কঙ্কর মারতে হবে
জামরা আকাবায় কঙ্কর মারার নিয়ম: সাত কঙ্কর ও তাকবির
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯০১
حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ أَبِي صَخْرَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ لَمَّا أَتَى عَبْدُ اللَّهِ جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ اسْتَبْطَنَ الْوَادِيَ وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَجَعَلَ يَرْمِي الْجَمْرَةَ عَلَى حَاجِبِهِ الأَيْمَنِ ثُمَّ رَمَى بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ ثُمَّ قَالَ وَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ مِنْ هَا هُنَا رَمَى الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ .حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَخْتَارُونَ أَنْ يَرْمِيَ الرَّجُلُ مِنْ بَطْنِ الْوَادِي بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِنْ لَمْ يُمْكِنْهُ أَنْ يَرْمِيَ مِنْ بَطْنِ الْوَادِي رَمَى مِنْ حَيْثُ قَدَرَ عَلَيْهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي بَطْنِ الْوَادِي .
আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
জামরা আকাবায় যখন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) আসলেন তখন উপত্যকার মাঝে দাঁড়ালেন, কেবলামুখী হলেন এবং বরাবর ডান ভ্রু উচু করে কংকর মারতে শুরু করলেন। তিনি সাতটি কংকর মারলেন এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় আল্লাহু আকবার বললেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! যিনি ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই, যার উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে তিনি এখান হতেই কংকর মেরেছেন।
হান্নাদ ওয়াকী হতে, তিনি মাসউদী হতে উক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ফাযল ইবনু আব্বাস, ইবনু উমর ও জাবির (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। তাদের মতে সাতটি কংকর উপত্যকার মধ্য হতে মারা এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় তাকবীর বলা পছন্দনীয়। কিছু সংখ্যক আলিম এই সুযোগ রেখেছেন যে, যদি উপত্যকার মধ্য হতে কংকর মারা সম্ভব না হয় তাহলে যেখান হতে সম্ভব সেখান হতেই তা মারা যাবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামরা আকাবায় কঙ্কর মারার নিয়ম খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) উপত্যকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে কেবলামুখী হন। এরপর জামরাকে ডান ভ্রু বরাবর রেখে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় তিনি “আল্লাহু আকবার” বলেন। কাজ শেষ করে তিনি শপথ করে জানান, যাঁর ওপর সূরা বাকারা নাজিল হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঠিক এই স্থান থেকেই কঙ্কর মেরেছেন। তাই হজে জামরায় কঙ্কর মারার পদ্ধতি শুধু একটি বাহ্যিক কাজ নয়; এটি নবীজির অনুসরণে করা একটি নির্দিষ্ট আমল। হাদিসের ভাষা থেকে বোঝা যায়, অবস্থান, কেবলামুখী হওয়া, সাতটি কঙ্কর ব্যবহার এবং প্রতিবার তাকবির বলা—সবকিছু মনোযোগ দিয়ে পালন করা উচিত। হজের আমল নিজের ইচ্ছামতো নয়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দেখানো নিয়মে করাই এই বর্ণনার মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামরা আকাবায় সাতটি কঙ্কর মারতে হয়।
- প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলা হয়।
- সম্ভব হলে উপত্যকার ভেতর থেকে কেবলামুখী হয়ে কঙ্কর মারা বর্ণিত পদ্ধতির অংশ।
- হজের আমলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুসরণকে গুরুত্ব দিতে হয়।
