৭/৬৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯০৬ - হাদীর পশু চিহ্নিত করার সুন্নতি পদ্ধতি
(হারাম শরীফ এলাকায় কোরবানীর জন্য পাঠানো) উটে চিহ্ন লাগানো
হাদীর পশু চিহ্নিত করার নিয়ম: গলায় মালা ও কুঁজে চিহ্ন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯০৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯০৬
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَسَّانَ الأَعْرَجِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَلَّدَ نَعْلَيْنِ وَأَشْعَرَ الْهَدْىَ فِي الشِّقِّ الأَيْمَنِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ وَأَمَاطَ عَنْهُ الدَّمَ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو حَسَّانَ الأَعْرَجُ اسْمُهُ مُسْلِمٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ يَرَوْنَ الإِشْعَارَ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ يُوسُفَ بْنَ عِيسَى يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ حِينَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ قَالَ لاَ تَنْظُرُوا إِلَى قَوْلِ أَهْلِ الرَّأْىِ فِي هَذَا فَإِنَّ الإِشْعَارَ سُنَّةٌ وَقَوْلَهُمْ بِدْعَةٌ . قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا السَّائِبِ يَقُولُ كُنَّا عِنْدَ وَكِيعٍ فَقَالَ لِرَجُلٍ عِنْدَهُ مِمَّنْ يَنْظُرُ فِي الرَّأْىِ أَشْعَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَيَقُولُ أَبُو حَنِيفَةَ هُوَ مُثْلَةٌ . قَالَ الرَّجُلُ فَإِنَّهُ قَدْ رُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ أَنَّهُ قَالَ الإِشْعَارُ مُثْلَةٌ . قَالَ فَرَأَيْتُ وَكِيعًا غَضِبَ غَضَبًا شَدِيدًا وَقَالَ أَقُولُ لَكَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَتَقُولُ قَالَ إِبْرَاهِيمُ مَا أَحَقَّكَ بِأَنْ تُحْبَسَ ثُمَّ لاَ تَخْرُجَ حَتَّى تَنْزِعَ عَنْ قَوْلِكَ هَذَا .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যুল-হুলাইফা নামক জায়গায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর পশুর গলায় একজোড়া জুতা ঝুলিয়ে দিলেন এবং এর কুঁজের ডান দিকে চিরে রক্ত প্রবাহিত করলেন।
মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ হাসসান আল-আরাজের নাম মুসলিম। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন। কুরবানীর উট বা গরুর কুঁজের ডান বা বাম দিক দিয়ে চিরে দেয়া তাঁদের মতে সুন্নাত। এই অভিমত সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর। ইউসুফ ইবনু ঈসা বলেন, এই হাদীস বর্ণনার সময় আমি ওয়াকীকে বলতে শুনেছি, আহলুর রায়ের কথার প্রতি এই বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ করবে না। কারণ, কুঁজ চিরা হলো সুন্নাত এবং আহলুর রায়ের কথা হলো বিদ'আত। আমি আবূস সাইবকে বলতে শুনেছি, আমরা ওয়াকীর নিকট বসা ছিলাম। একজন আহলুর রায়কে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর পশুর কুঁজ চিরেছেন। আর আবূ হানীফা বলেন যে, তা মুসলা বা অঙ্গ বিকৃতকরণ। ঐ ব্যক্তি বলল, ইবরাহীম নাখঈ বলেছেন, এটা হলো মুসলা। আবূস সাঈব বলেন, আমি দেখতে পেলাম ওয়াকী ভীষণভাবে রেগে গেলেন এবং বললেন, আমি বলছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আর তুমি বলছ ইবরাহীম বলেছেন। তোমাকে কারারুদ্ধ করা উচিত। তুমি যে পর্যন্ত না এই বক্তব্য প্রত্যাহার করছ সে পর্যন্ত তোমাকে কারামুক্ত করা অনুচিত।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজের জন্য নিয়ে যাওয়া হাদীর পশু চিহ্নিত করার পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যুল-হুলায়ফায় পশুটির গলায় একজোড়া জুতা ঝুলিয়ে দেন। এরপর কুঁজের ডান পাশে সামান্য চিরে রক্ত বের করেন এবং রক্ত সরিয়ে দেন। এই কাজের মাধ্যমে পশুটি যে হাদী বা কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট, তা বোঝানো হতো। হাদিসে দুটি বিষয় স্পষ্ট: গলায় চিহ্ন ঝোলানো এবং কুঁজের ডান দিকে চিহ্ন করা। ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এর বাইরে অন্য পদ্ধতি যোগ করার দরকার নেই। মূল শিক্ষা হলো, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাদীর পশুকে আলাদা করে চেনানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। হজের কুরবানির পশু নিয়ে আলোচনা করতে এই বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে কাজের স্থান, পশুর গলায় ঝোলানো বস্তু এবং চিহ্ন দেওয়ার দিক পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদীর পশুর গলায় জুতা ঝুলিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
- পশুর কুঁজের ডান পাশে চিহ্ন দেওয়া হয়েছিল।
- চিহ্ন দেওয়ার পর রক্ত সরিয়ে দেওয়া হয়।
- হাদীর পশুকে অন্য পশু থেকে আলাদা করে চেনানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
