৭/৭০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯০৯ - মেষ-বকরির হাদীতে মালা ও ইহরামের বিধান
কুরবানীর মেষ-বকরীর গলায় মালা পরানো
মেষ ও বকরির হাদীর গলায় মালা: ইহরাম কখন শুরু হয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯০৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯০৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَفْتِلُ قَلاَئِدَ هَدْىِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ كُلَّهَا غَنَمًا ثُمَّ لاَ يُحْرِمُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ يَرَوْنَ تَقْلِيدَ الْغَنَمِ .
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরানোর রশি পাকিয়ে দিতাম। এগুলোর সবই ছিল মেষ ও বকরী। এরপরও তিনি ইহরাম বাঁধেননি।
এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণ আমল করেছেন এবং কুরবানীর মেষ-বকরী ইত্যাদির গলায় মালা পরানো বৈধ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিশেষভাবে মেষ ও বকরির হাদীর কথা এসেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর হাদীর গলায় পরানোর মালার রশি পাকিয়ে দিতেন এবং সেই পশুগুলো ছিল মেষ ও বকরি। এরপরও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইহরাম বাঁধতেন না। অর্থাৎ ছোট গবাদিপশুকেও হাদী হিসেবে চিহ্নিত করতে মালা ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাদিসটি আবারও দেখায়, পশুর গলায় মালা পরানো মানেই সঙ্গে সঙ্গে ইহরাম শুরু হয়ে যাওয়া নয়। মেষ-বকরির হাদী, মালা পরানো এবং ইহরামের সম্পর্ক জানতে এই বর্ণনা খুব সরাসরি। এখানে অন্য কোনো শর্ত, সময় বা পদ্ধতি বলা হয়নি। তাই ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত বিধান না যোগ করে মূল ঘটনাটি বোঝাই যথেষ্ট: মালা তৈরি হয়েছে, পশুগুলো মেষ ও বকরি ছিল, আর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তখনও ইহরাম বাঁধেননি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মেষ ও বকরিকেও হাদী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
- হাদীর গলায় পরানোর মালার রশি তৈরি করা হতো।
- মালা পরানোর পরও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তখনই ইহরাম বাঁধেননি।
- পশু চিহ্নিতকরণ ও ইহরাম শুরুকে আলাদা করে বুঝতে হয়।
