৭/৭১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯১০ - পথে হাদীর পশু অচল হলে করণীয়
কুরবানীর পশু পথ চলতে না পারলে যা করতে হবে
পথে কুরবানির পশু অসুস্থ বা অচল হলে কী করবেন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯১০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯১০
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ نَاجِيَةَ الْخُزَاعِيِّ، صَاحِبِ بُدْنِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَصْنَعُ بِمَا عَطِبَ مِنَ الْبُدْنِ قَالَ «انْحَرْهَا ثُمَّ اغْمِسْ نَعْلَهَا فِي دَمِهَا ثُمَّ خَلِّ بَيْنَ النَّاسِ وَبَيْنَهَا فَيَأْكُلُوهَا» .وَفِي الْبَابِ عَنْ ذُؤَيْبٍ أَبِي قَبِيصَةَ الْخُزَاعِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ نَاجِيَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا فِي هَدْىِ التَّطَوُّعِ إِذَا عَطِبَ لاَ يَأْكُلُ هُوَ وَلاَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ رُفْقَتِهِ وَيُخَلَّى بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ يَأْكُلُونَهُ وَقَدْ أَجْزَأَ عَنْهُ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالُوا إِنْ أَكَلَ مِنْهُ شَيْئًا غَرِمَ بِقَدْرِ مَا أَكَلَ مِنْهُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أَكَلَ مِنْ هَدْىِ التَّطَوُّعِ شَيْئًا فَقَدْ ضَمِنَ الَّذِي أَكَلَ .
নাজিয়া আল-খুযাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কুরবানীর পশু পথ চলতে না পারলে এবং এর মৃত্যুর আশংকা দেখা দিলে আমি কি করব? তিনি বললেনঃ এটিকে যবাহ কর, এর (গলায় বাঁধা) জুতা তার রক্তে ডুবিয়ে দাও, এরপর মানুষের জন্য তা রেখে দাও যেন তারা তা খেতে পারে।
যুওয়াইব আবূ কাবীসা আল-খুযাঈ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। নাজিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করার অভিমত দিয়েছেন। তারা বলেন, নফল কুরবানীর ক্ষেত্রে পশুটি চলতে না পারলে (যবাহ করার পর) সে নিজে বা তার সঙ্গীরা এর গোশত খেতে পারবে না, বরং লোকদের জন্য তা ফেলে রাখবে তারা যাতে উহা খেতে পারে। আর তার জন্য কুরবানী হিসাবে এটি যথেষ্ট হবে। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকের। তারা বলেন, যদি মালিক তা হতে কিছু খেয়ে থাকে তাহলে যতটুকু খেয়েছে সেই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অপর একদল আলিম বলেন, নফল কুরবানীর পশু হতে যদি সে কিছু খায় তাহলে তার বিনিময়ে আরেকটি কুরবানী দিতে হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাত্রাপথে হাদীর পশু চলতে না পারলে করণীয় শেখানো হয়েছে। নাজিয়া আল-খুযাঈ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন, পশুটি অচল হয়ে গেলে এবং মৃত্যুর আশঙ্কা হলে কী করবেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, পশুটিকে যবেহ করতে হবে। এরপর তার গলায় বাঁধা জুতাটি রক্তে ডুবিয়ে দিতে হবে, যাতে বোঝা যায় এটি হাদীর পশু। তারপর মানুষের জন্য পশুটি ছেড়ে দিতে হবে, যেন তারা তা খেতে পারে। হাদিসে নিজের জন্য রেখে দেওয়া বা লুকিয়ে নেওয়ার কথা নেই; বরং মানুষের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়ার নির্দেশ আছে। পথের কুরবানির পশু অসুস্থ হলে কী করতে হবে—এ প্রশ্নে এই বর্ণনা ধাপে ধাপে উত্তর দেয়: যবেহ, চিহ্ন, তারপর মানুষের খাওয়ার সুযোগ। এর বাইরে অতিরিক্ত দাবি না করাই ঠিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদীর পশু অচল হয়ে মৃত্যুর আশঙ্কা হলে তা যবেহ করতে বলা হয়েছে।
- পশুর গলায় থাকা চিহ্ন রক্তে ডুবিয়ে দিতে বলা হয়েছে।
- যবেহ করা পশুটি মানুষের জন্য ছেড়ে দিতে হবে।
- মানুষকে সেই গোশত খাওয়ার সুযোগ দেওয়া নির্দেশের অংশ।
