৭/৯৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৪১ - হজে শর্তযুক্ত ইহরাম ও বাধার সমাধান
হজ্জের মধ্যে শর্ত আরোপ করা
হজে শর্তযুক্ত ইহরাম: বাধা এলে কী বলবেন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯৪১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯৪১
حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَوَّامٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ ضُبَاعَةَ بِنْتَ الزُّبَيْرِ، أَتَتِ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ الْحَجَّ أَفَأَشْتَرِطُ قَالَ «نَعَمْ» . قَالَتْ كَيْفَ أَقُولُ قَالَ " قُولِي لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ مَحِلِّي مِنَ الأَرْضِ حَيْثُ تَحْبِسُنِي " .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَرَوْنَ الاِشْتِرَاطَ فِي الْحَجِّ وَيَقُولُونَ إِنِ اشْتَرَطَ فَعَرَضَ لَهُ مَرَضٌ أَوْ عُذْرٌ فَلَهُ أَنْ يَحِلَّ وَيَخْرُجَ مِنْ إِحْرَامِهِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَلَمْ يَرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الاِشْتِرَاطَ فِي الْحَجِّ وَقَالُوا إِنِ اشْتَرَطَ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَخْرُجَ مِنْ إِحْرَامِهِ . وَيَرَوْنَهُ كَمَنْ لَمْ يَشْتَرِطْ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যুবাআ বিনতুয যুবাইর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হজ্জ আদায় করতে চাচ্ছি। আমি কি কোন শর্ত আরোপ করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যুবাআ বললেন, আমি কিভাবে বলব। তিনি বললেনঃ তুমি বলবে, আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ। আমি উপস্থিত। হে আল্লাহ! তুমি যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করে দিবে সেখানেই আমি ইহরামমুক্ত হব।
জাবির, আসমা বিনতু আবূ বাকর ও আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করেছেন। তাদের মতে হজ্জের ক্ষেত্রে এইরূপ শর্তারোপ করা যায়। তারা বলেন, যদি কোন ইহরামধারী এইরূপ শর্ত করার পর বাঁধার সম্মুখীন হয় অথবা অপারগ হয়ে পড়ে তাহলে সেলোক ইহরামমুক্ত হয়ে যেতে পারবে। এই মত দিয়েছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। হজ্জের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা আরেক দল আলিমের মতে সঠিক নয়। তারা বলেন, কোন লোক শর্তারোপ করলেও ইহরামমুক্ত হতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে তাকে কোন শর্তারোপ না করা ব্যক্তির মতই গণ্য করা হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজে শর্তযুক্ত ইহরামের একটি স্পষ্ট বাক্য শেখানো হয়েছে। যুবাআ বিনতে যুবাইর (রা.) হজ করতে চেয়েছিলেন এবং জানতে চেয়েছিলেন, তিনি আগে থেকে কোনো শর্ত রাখতে পারবেন কি না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে অনুমতি দেন। এরপর তিনি কীভাবে বলবেন, সেটিও শিখিয়ে দেন। মূল কথাটি হলো, হাজি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তালবিয়া বলবেন এবং সঙ্গে জানাবেন—আল্লাহ যেখানে তাকে বাধাগ্রস্ত করবেন, সেখানেই তার ইহরাম শেষ হবে। এখানে নিজের সুবিধামতো হজ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং এমন বাধার কথা এসেছে, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে তাকে আটকে দেয়। তাই হজের নিয়ত, তালবিয়া এবং সম্ভাব্য বাধার শর্ত—এই তিনটি বিষয় হাদিসে একসঙ্গে এসেছে। হজে শর্ত কীভাবে বলতে হয়—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তরও এই বর্ণনায় পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজের ইহরাম বাঁধার সময় বাধাগ্রস্ত হওয়ার শর্ত বলা যেতে পারে।
- শর্তের বাক্যটি আল্লাহর সামনে নিজের অবস্থাকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে।
- শর্ত মানে ইচ্ছামতো হজ ছেড়ে দেওয়া নয়; বর্ণনায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
