৭/১১২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৬০ - তাওয়াফ নামাজের মতো, কথা হবে ভালো
হাজরে আসওয়াদ প্রসঙ্গে
তাওয়াফের আদব: কথা বললে শুধু ভালো কথা বলুন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯৬০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯৬০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " الطَّوَافُ حَوْلَ الْبَيْتِ مِثْلُ الصَّلاَةِ إِلاَّ أَنَّكُمْ تَتَكَلَّمُونَ فِيهِ فَمَنْ تَكَلَّمَ فِيهِ فَلاَ يَتَكَلَّمَنَّ إِلاَّ بِخَيْرٍ».قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِي هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ وَغَيْرِهِ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَوْقُوفًا. وَلاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ أَنْ لاَ يَتَكَلَّمَ الرَّجُلُ فِي الطَّوَافِ إِلاَّ لَحَاجَةٍ أَوْ بِذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى أَوْ مِنَ الْعِلْمِ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বাইতুল্লাহর চারদিকে তাওয়াফ করা নামাজ আদায়ের অনুরূপ। তবে তোমরা এতে (তাওয়াফকালে) কথা বলতে পার। সুতরাং তাওয়াফকালে যে ব্যক্তি কথা বলে সে যেন ভাল কথা বলে।
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে ইবনু তাউস প্রমুখ হতে মাওকুফ হিসেবেও বর্ণিত আছে। এটি আতা ইবনুস সাইব ছাড়া অন্যকোন সূত্রে মারফূভাবে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। এই হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করার কথা বলেছেন। তারা বলেন, বিশেষ কোন প্রয়োজনীয় কথা, আল্লাহর যিকির ও ইলম প্রসঙ্গীয় আলোচনা ব্যতীত তাওয়াফের সময় অন্য কোন কথা না বলা মুস্তাহাব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বাইতুল্লাহর চারদিকে তাওয়াফকে নামাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাওয়াফের গুরুত্ব, মনোযোগ ও সম্মান বোঝানো হয়েছে। তবে নামাজের সঙ্গে একটি পার্থক্যও স্পষ্ট করা হয়েছে: তাওয়াফের সময় কথা বলা যায়। সেই অনুমতি সীমাহীন নয়; যে কথা বলবে, তাকে ভালো কথা বলতে বলা হয়েছে। তাই তাওয়াফের আদব হলো অপ্রয়োজনীয়, খারাপ বা অনুচিত কথা এড়িয়ে চলা এবং মুখকে ভালো কথায় ব্যস্ত রাখা। হাদিসটি বলে না যে তাওয়াফে কথা বললেই তাওয়াফ নষ্ট হয়ে যাবে। বরং কথা বলার সুযোগ স্বীকার করে তার মান ঠিক করে দেয়। তাওয়াফের সময় কী বলা উচিত—এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, প্রয়োজনীয় ও ভালো কথা বলা। এই শিক্ষা তাওয়াফকে শুধু শারীরিকভাবে কাবা প্রদক্ষিণ নয়, বরং সংযত ও সম্মানপূর্ণ ইবাদত হিসেবে দেখতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওয়াফকে নামাজের মতো মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত বলা হয়েছে।
- তাওয়াফের সময় কথা বলা যায়।
- কথা বললে শুধু ভালো কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
