৭/১১১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৫৯ - হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ
তাওয়াফকালে কথাবার্তা বলা
হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শের ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯৫৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯৫৯
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنِ ابْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يُزَاحِمُ عَلَى الرُّكْنَيْنِ زِحَامًا مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ يَفْعَلُهُ. فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّكَ تُزَاحِمُ عَلَى الرُّكْنَيْنِ زِحَامًا مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ يُزَاحِمُ عَلَيْهِ.فَقَالَ إِنْ أَفْعَلْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا». وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ «مَنْ طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ أُسْبُوعًا فَأَحْصَاهُ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ». وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ «لاَ يَضَعُ قَدَمًا وَلاَ يَرْفَعُ أُخْرَى إِلاَّ حَطَّ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً وَكَتَبَ لَهُ بِهَا حَسَنَةً». قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنِ ابْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ نَحْوَهُ. وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ أَبِيهِ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.
উমাইর (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ভীড় ঠেলে হলেও ইবনু উমর (রাঃ) হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর নিকটে যেতেন (তা ম্পর্শ করার জন্য)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্য কোন সাহাবীকে আমি এরূপ করতে দেখিনাই। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রাহমান! আপনি ভীড় ঠেলে হলেও এই দুই রুকনে গিয়ে পৌছেন, কিন্তু আমি তো ভীড় ঠেলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্যকোন সাহাবীকে সেখানে যেতে দেখিনি। তিনি বললেন, আমি এরূপ কেন করব না? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ এই দুইটি রুকন স্পর্শ করলে গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়।
আবূ ঈসা বলেন, একইরকম হাদীস ইবনু উমর (রাঃ) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত.আছে। কিন্তু সেই সনদে উমাইরের উল্লেখ নেই। এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রা.)-এর হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করার প্রবল আগ্রহের কথা এসেছে। বর্ণনাকারী দেখেছেন, তিনি ভিড়ের মধ্যেও এই দুই রুকনের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। কারণ জিজ্ঞেস করলে ইবনু উমর (রা.) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন যে, এই দুইটি রুকন স্পর্শ করা গুনাহের কাফফারা হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, তার এই আমল ব্যক্তিগত অভ্যাস ছিল না; তিনি নবীজির কাছ থেকে শোনা ফজিলতের ভিত্তিতে তা করতেন। হাদিসটি স্পর্শের ফজিলত জানায় এবং সাহাবির সুন্নাহ অনুসরণের আগ্রহ তুলে ধরে। তবে বর্ণনায় মানুষের ক্ষতি করা বা ঝগড়া করার নির্দেশ নেই। তাই নিশ্চিতভাবে যে কথাটি বলা যায়, তা হলো হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শকে গুনাহ মোচনের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী স্পর্শের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
- ইবনু উমর (রা.) নবীজির কাছ থেকে শোনা কথার ভিত্তিতে এই আমল করতেন।
- এই দুই রুকন স্পর্শকে গুনাহের কাফফারা হওয়ার কারণ বলা হয়েছে।
