১২/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ১৬৬ - জাহেলী রীতি ও অন্যায় রক্তপাত
বিদ‘আত
জাহেলী রীতি থেকে দূরে থাকা: ইসলামের পরিষ্কার সতর্কতা
ঊপদেশ : ১৬৬
ঊপদেশহাদিস নম্বর ১৬৬
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ أَبْغَضُ النَّاسِ إِلَى اللهِ ثَلاَثَةٌ مُلْحِدٌ فِى الْحَرَمِ، وَمُبْتَغٍ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ، وَمُطَّلِبُ دَمِ امْرِئٍ بِغَيْرِ حَقٍّ لِيُهَرِيْقَ دَمَهُ.
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন ‘তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকটে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত।-(১) যে ব্যক্তি হারামে নিষিদ্ধ কাজ করে(২) যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে জাহেলী যুগের রীতি চালুর আকাঙ্ক্ষা করে(৩) যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো রক্ত কামনা করে স্রেফ রক্তপাতের উদ্দেশ্যে’
(বুখারী, মিশকাত হা/১৪২)। ইসলামী রীতি-নীতি ছাড়া সবকিছুই জাহেলী রসম-রেওয়াজ।
ঊপদেশ হাদিস ১৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তিন ধরনের মানুষকে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত বলা হয়েছে। প্রথমত, যে হারাম এলাকায় নিষিদ্ধ কাজ করে। দ্বিতীয়ত, যে ইসলামের মধ্যে জাহেলী যুগের রীতি চালু করতে চায়। তৃতীয়ত, যে অন্যায়ভাবে কারো রক্ত চাইতে থাকে শুধু রক্তপাতের উদ্দেশ্যে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইসলাম মানুষকে পবিত্রতা, ন্যায় ও সুস্থ রীতি শেখায়। জাহেলিয়াত মানে এমন রীতি, যা ইসলামি নীতির বিপরীত। তাই মুসলিম সমাজে অন্যায় রসম, হিংসা, রক্তপাত বা পুরনো অন্ধ অভ্যাসকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা বিপজ্জনক। এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দ্বীনের নামে বা সমাজের নামে কোনো কাজ করা হলেও তা যদি ইসলামের ন্যায়নীতির বিরুদ্ধে যায়, তবে তা বর্জনীয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হারাম এলাকায় নিষিদ্ধ কাজ করা কঠোর সতর্কতার বিষয়।
- ইসলামের মধ্যে জাহেলী রীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা নিন্দনীয়।
- অন্যায়ভাবে কারো রক্তপাত চাওয়া বড় অন্যায়।
- মুসলিমের কাজ হলো ন্যায়, পবিত্রতা ও ইসলামী রীতি মেনে চলা।
