৩/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ১৭ - আমানতদারি ও অঙ্গীকারের মূল্য
আত্মসাৎ
আমানতদারি ও অঙ্গীকার পূরণ: পূর্ণ ঈমানের বড় লক্ষণ
ঊপদেশ : ১৭
ঊপদেশহাদিস নম্বর ১৭
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَلَّمَا خَطَبَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِلاَّ قَالَ لاَ إِيْمَانَ لِمَنْ لاَ أَمَانَةَ لَهُ وَلاَ دِيْنَ لِمَنْ لاَ عَهْدَ لَهُ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে এরূপ উপদেশ খুব কমই দিয়েছেন, যাতে একথাগুলি বলেননি যে, ‘যার আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই এবং যার অঙ্গীকারের মূল্য নেই তার দ্বীন-ধর্ম নেই’
(আহমাদ হা/১১৯৩৫, মিশকাত হা/৩৫, বাংলা মিশকাত হা/৩১)। অত্র হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আমানত রক্ষা করা এবং অঙ্গীকার পূরণ করা পূর্ণ মুমিন হওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ঊপদেশ হাদিস ১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুব কমই এমন উপদেশ দিয়েছেন, যাতে তিনি বলেননি: যার আমানতদারি নেই তার ঈমান নেই এবং যার অঙ্গীকারের মূল্য নেই তার দ্বীন নেই। এই কথা মুসলিম জীবনে আমানত ও অঙ্গীকারের গুরুত্ব খুব স্পষ্ট করে। আমানত শুধু টাকা বা মাল নয়; দায়িত্ব, কথা, গোপন বিষয় এবং মানুষের অধিকারও আমানতের মধ্যে পড়তে পারে—ইসলামী স্কলারদের মতে। তবে হাদিসের সরাসরি শিক্ষা হলো, আমানত রক্ষা ও অঙ্গীকার পূরণ ছাড়া মানুষের ঈমানি চরিত্র পূর্ণ হয় না। তাই কথা দিলে তা রক্ষা করা এবং দায়িত্ব পেলে তা ঠিকমতো পালন করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমানতদারি ঈমানি চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- অঙ্গীকারের মূল্য না দিলে দ্বীনি আচরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- উপদেশে আমানত ও ওয়াদার কথা বারবার স্মরণ করানো হয়েছে।
- বিশ্বাসযোগ্য হওয়া মুসলিম জীবনের বড় গুণ।
