১৪/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ২০১ - নম্রতা ও কোমলতার কল্যাণ
সদাচরণ
নম্রতা ও কোমলতা: কল্যাণ পাওয়ার বড় শিক্ষা
ঊপদেশ : ২০১
ঊপদেশহাদিস নম্বর ২০১
عَنْ جَرِيْرٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: مَنْ يُحْرَمُ الرِّفْقَ يُحْرَمُ الْخَيْرَ.
জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জারীর (রাঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘যাকে কোমলতা ও নম্রতা হতে বঞ্চিত করা হয়, তাকে যাবতীয় কল্যাণ হতে বঞ্চিত করা হয়’
(মুসলিম, মিশকাত হা/৫০৬৯)।
ঊপদেশ হাদিস ২০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল কথা খুব সরল: কোমলতা ও নম্রতা মানুষের জীবনে কল্যাণের দরজা খুলে দেয়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যাকে কোমলতা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাকে কল্যাণ থেকেও বঞ্চিত করা হয়। এখানে নম্রতা মানে দুর্বলতা নয়; বরং কথা, আচরণ ও ব্যবহারকে নরম রাখা। পরিবারে, কাজে বা মানুষের সঙ্গে মেলামেশায় রুক্ষ কথা অনেক সময় সম্পর্ক নষ্ট করে। আর কোমল ব্যবহার মানুষকে কাছে আনে। তাই এই হাদিস আমাদের শেখায়, ভালো মুসলিম চরিত্র গড়তে নরম ভাষা, ধৈর্য আর সুন্দর আচরণ জরুরি। হাদিসে কল্যাণের কথা এসেছে, তাই আমরা বলতে পারি—নম্রতা মানুষকে ভালো গুণের দিকে নিয়ে যায়। তাই নিজের ভাষা ও আচরণে কোমলতা আছে কি না, তা নিয়মিত খেয়াল করা এই হাদিসের খুব বাস্তব প্রয়োগ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথা ও আচরণে কোমলতা রাখা কল্যাণের কারণ।
- রুক্ষ স্বভাব মানুষকে ভালো দিক থেকে দূরে নিতে পারে।
- নম্র ব্যবহার পরিবার ও সমাজে সম্পর্ক সুন্দর করে।
- কোমলতা দুর্বলতা নয়; এটি ভালো চরিত্রের অংশ।
