৩/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ২৬ - খিয়ানত ও কিয়ামতের জবাবদিহি
আত্মসাৎ
খিয়ানত থেকে বাঁচুন: কিয়ামতে গোপন আত্মসাৎ প্রকাশ পাবে
ঊপদেশ : ২৬
ঊপদেশহাদিস নম্বর ২৬
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَامَ فِيْنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ فَذَكَرَ الْغُلُوْلَ فَعَظَّمَهُ وَعَظَّمَ أَمْرَهُ ثُمَّ قَالَ لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِىءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ بَعِيْرٌ لَهُ رُغَاءٌ يَقُوْلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَغِثْنِى. فَأَقُوْلُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ. لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِىءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ فَرَسٌ لَهُ حَمْحَمَةٌ فَيَقُوْلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَغِثْنِى. فَأَقُوْلُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ. لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِىءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ شَاةٌ لَهَا ثُغَاءٌ يَقُوْلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَغِثْنِى. فَأَقُوْلُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ. لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِىءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ نَفْسٌ لَهَا صِيَاحٌ فَيَقُوْلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَغِثْنِى. فَأَقُوْلُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ. لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِىءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ رِقَاعٌ تَخْفِقُ فَيَقُوْلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَغِثْنِى. فَأَقُوْلُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ. لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِىءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ صَامِتٌ فَيَقُوْلُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَغِثْنِى فَأَقُوْلُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা নবী (ﷺ) আমাদের মাঝে বক্তব্য দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন, তিনি খিয়ানত সম্পর্কে বক্তব্য দিলেন এবং খিয়ানতের বিষয়টি খুব বড় করে পেশ করলেন। তারপর তিনি বললেন, ‘কেয়ামতের দিন তোমাদের কাউকে আমি এমন অবস্থায় পাব যে, তার কাঁধের উপর উট চিৎকার করতে থাকবে। সে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে রক্ষা করুন। আমি বলব, আজ আল্লাহর সামনে তোমার জন্য সামান্য কিছু করার ক্ষমতা আমি রাখি না, যা পূর্বেই বলেছি।কেয়ামতের দিন আমি তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় পাব যে, তার কাঁধের উপর ঘোড়া চিৎকার করতে থাকবে। সে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে রক্ষা করুন, আমি বলব, আজ আল্লাহর সামনে তোমার জন্য সামান্য কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই, যা আমি পূর্বেই বলেছি। কেয়ামতের দিন আমি যেন তোমাদের কাউকে এই অবস্থায় দেখতে না পাই যে, সে কাঁধের উপর একটি ছাগল বহন করছে এবং আমাকে বলবে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলব, আমি কিছুই করতে পারব না। আমি তো তোমাকে আল্লাহর বিধান পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছি।কেয়ামতের দিন আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় দেখতে না পাই যে, সে নিজের কাঁধের উপর চিৎকার রত একটি মানুষ বহন করে নিয়ে আসবে আর আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলব, আজ আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। আমি আল্লাহর বিধান তোমাকে পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছি।কেয়ামতের দিন আমি যেন তোমাদের কাউকে এ অবস্থায় দেখতে না পাই যে, সে নিজের কাঁধের উপর কাপড় ইত্যাদির এক খণ্ড বহন করে নিয়ে আসছে। আর তা ভীষণভাবে তার কাঁধের উপর দুলছে, তখন সে আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন, আর আমি বলব, আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারব না। কেয়ামতে আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না দেখতে পাই যে, সে নিজের কাঁধের উপর অচেতন সম্পদ (সোনা-চাঁদি) বহন করে নিয়ে আসছে। আর আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন। আর আমি বলব, আজ আমি তোমাকে কোন সাহায্য করতে পারব না। আমি তো তোমাকে আল্লাহর বিধান পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছি’
(মুসলিম, মিশকাত হা/৩৯৯৬)।
ঊপদেশ হাদিস ২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খিয়ানতের ভয়াবহতা খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খিয়ানতের বিষয়টি বড় করে তুলে ধরেছেন এবং কিয়ামতের দিনের কয়েকটি দৃশ্য বলেছেন। কেউ উট, কেউ ঘোড়া, কেউ ছাগল, কেউ মানুষ, কেউ কাপড়, কেউ সোনা-চাঁদির মতো সম্পদ কাঁধে নিয়ে আসবে—অর্থাৎ যে জিনিসে খিয়ানত করেছে, সেটিই তার দায় হয়ে প্রকাশ পাবে। তখন সে সাহায্য চাইবে, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলবেন, তিনি আগেই আল্লাহর বিধান জানিয়ে দিয়েছেন। এই হাদিস আত্মসাৎ ও খিয়ানত থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করে। আমানত লুকিয়ে রাখা, দায়িত্বের সম্পদ নেওয়া বা অন্যের মাল নিজের করে নেওয়া কখনো নিরাপদ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খিয়ানত করা বস্তু কিয়ামতে দায় হিসেবে প্রকাশ পাবে।
- আগে সতর্ক করা হলে পরে অজুহাতের সুযোগ কমে যায়।
- অন্যের মাল, প্রাণী, কাপড় বা সম্পদ আত্মসাৎ করা গুরুতর বিষয়।
- আমানত রক্ষা করা আখিরাতের জবাবদিহির সঙ্গে জড়িত।
