৩/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ২৫ - সম্পদে সততা ও বরকতের শিক্ষা
আত্মসাৎ
হালাল সম্পদে বরকত: আল্লাহর সম্পদে অন্যায় তসরূপ নয়
ঊপদেশ : ২৫
ঊপদেশহাদিস নম্বর ২৫
عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ قَيْسٍ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ هَذِهِ الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ فَمَنْ أَصَابَهُ بِحَقِّهِ بُوْرِكَ لَهُ فِيْهِ وَرُبَّ مُتَخَوِّضٍ فَمَا شَاءَتْ بِهِ نَفْسُهُ مِنْ مَالِ اللهِ وَرَسُوْلِهِ لَيْسَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا النَّارُ.
খাওলাহ বিনতে কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই পার্থিব সম্পদ শ্যামল ও সুমিষ্ট (অর্থাৎ আকর্ষণীয়) তবে যেই ব্যক্তি ন্যায়ভাবে প্রাপ্ত হয় তাতে তার বরকত হয়। আবার বহু লোক এমনও আছে, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্পদে (অর্থাৎ গনীমতের মালে) যথেচ্ছা তছরুপ করে, তার জন্য কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন ব্যতীত আর কিছুই না’
(তিরমিযী, মিশকাত হা/৪০১৭)।
ঊপদেশ হাদিস ২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সম্পদের আকর্ষণ ও তার পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, পার্থিব সম্পদ শ্যামল ও সুমিষ্ট, অর্থাৎ মানুষকে টানে। কিন্তু সম্পদ তখনই কল্যাণের কারণ হয়, যখন তা ন্যায়ভাবে পাওয়া যায়। হালাল সম্পদে বরকত—এই শিক্ষা এখানেই স্পষ্ট। আবার যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্পদে নিজের ইচ্ছামতো তসরূপ করে, তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কঠিন পরিণামের কথা এসেছে। তাই সম্পদ বেশি হওয়াই মূল কথা নয়; বরং তা কীভাবে পাওয়া হলো এবং কীভাবে ব্যবহার করা হলো, সেটাই বড় বিষয়। বিশেষ করে দায়িত্বে থাকা মাল, গনীমত বা জনস্বার্থের সম্পদে সততা রাখা খুব জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ আকর্ষণীয় হলেও তা পরীক্ষা হতে পারে।
- ন্যায়ভাবে পাওয়া সম্পদে বরকতের কথা এসেছে।
- আল্লাহ ও রাসূলের সম্পদে অন্যায় তসরূপ গুরুতর অপরাধ।
- সম্পদের উৎস ও ব্যবহার—দুই দিকেই সতর্ক থাকা দরকার।
