৩/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ২৮ - দায়িত্বের মাল আত্মসাৎ থেকে ভয়
আত্মসাৎ
দায়িত্বের মাল আত্মসাৎ: কারকারার ঘটনা থেকে সতর্ক শিক্ষা
ঊপদেশ : ২৮
ঊপদেশহাদিস নম্বর ২৮
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ كَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ ﷺ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كَرْكَرَةُ فَمَاتَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ هُوَ فِي النَّارِ فَذَهَبُوا يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ فَوَجَدُوا عَبَاءَةً قَدْ غَلَّهَا.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ)-এর গনীমতের মালের এক ব্যক্তি দায়িত্বশীল ছিল, যে কারকারা নামে পরিচিত। সে মারা গেলে রাসূল (ﷺ) তাকে জাহান্নামী বলে ঘোষণা করেন। সাহাবীগণ তার নিকট গিয়ে দেখলেন সে একটি চাদর আত্মসাৎ করেছিল
(ইবনু মাজাহ, হা/২৮৪১, হাদীস সহীহ, বুখারী, মিশকাত হা/৩৯৯৮; বাংলা ৮ম খণ্ড, হা/৩৮২২)।
ঊপদেশ হাদিস ২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন এক ব্যক্তির কথা এসেছে, যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গনীমতের মালের দায়িত্বে ছিল। তার নাম ছিল কারকারা। সে মারা গেলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জাহান্নামী বলে জানান। পরে সাহাবীগণ গিয়ে দেখলেন, সে একটি চাদর আত্মসাৎ করেছিল। হাদিসটি দায়িত্বের মাল আত্মসাৎ সম্পর্কে কঠিন সতর্কতা দেয়। কেউ যদি কোনো সম্পদের পাহারাদার, দায়িত্বশীল বা ব্যবস্থাপক হয়, তাহলে তার দায়িত্ব আরও বড়। কারণ সে নিজের জন্য নয়, আমানতের জন্য কাজ করছে। একটি চাদরকে ছোট মনে করা হলেও হাদিসে তার পরিণাম কঠিনভাবে এসেছে। তাই সরকারি, সামাজিক, পারিবারিক বা যে কোনো দায়িত্বের মাল নিজের করে নেওয়া থেকে বেঁচে থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দায়িত্বে থাকা মাল নিজের জন্য নেওয়া খিয়ানত।
- আত্মসাৎ করা বস্তু ছোট হলেও এর দায় বড় হতে পারে।
- দায়িত্বশীল ব্যক্তির আমানতদারি আরও বেশি জরুরি।
- গোপনভাবে নেওয়া জিনিস আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।
