৫/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ৬১ - কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচার শিক্ষা
সত্য-মিথ্যা
কবীরা গুনাহ: শিরক, অবাধ্যতা, হত্যা ও মিথ্যার ভয়াবহ শিক্ষা
ঊপদেশ : ৬১
ঊপদেশহাদিস নম্বর ৬১
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الْكَبَائِرُ الْإِشْرَاكُ بِاللهِ وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ وَقَتْلُ النَّفْسِ وَالْيَمِيْنُ الْغمُوْسُ. رَوَاهُ البُخَارِيّ وَفِي رِوَايَةِ أَنَسٍ: وَشَهَادَةُ الزُّورِ بَدَلُ: الْيَمِيْنُ الْغُمُوْسُ-
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) রাসূল (ﷺ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, ‘বড় বড় কবীরা গুনাহ হচ্ছে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করা’ (বুখারী)। কিন্তু আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় ‘মিথ্যা কসম’-এর পরিবর্তে ‘মিথ্যা সাক্ষ্য’ শব্দ রয়েছে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৬)।
ঊপদেশ হাদিস ৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বড় বড় কবীরা গুনাহের কয়েকটি স্পষ্ট উদাহরণ বলা হয়েছে। মূল বিষয় হলো, মানুষের ঈমান, পরিবার, জীবন ও কথার সততা—সবকিছু আল্লাহর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা সবচেয়ে বড় অন্যায় হিসেবে এসেছে। এরপর পিতা-মাতার অবাধ্যতা বলা হয়েছে, যা পরিবার ও দায়িত্ববোধের সাথে জড়িত। কাউকে হত্যা করা মানুষের জীবনের অধিকার নষ্ট করে। আর মিথ্যা কসম বা মিথ্যা সাক্ষ্য মানুষের বিশ্বাস, বিচার ও সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই এই হাদিস আমাদের শেখায়, বড় গুনাহ থেকে দূরে থাকতে হলে ঈমানকে শুদ্ধ রাখা, বাবা-মায়ের হক মানা, মানুষের জীবনকে সম্মান করা এবং কথায় সত্যবাদী থাকা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা বড় কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
- পিতা-মাতার অবাধ্যতা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা ভয়াবহ গুনাহ।
- মিথ্যা কসম ও মিথ্যা সাক্ষ্য মানুষের হক নষ্ট করতে পারে।
