৫/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ৬২ - মুনাফিকের তিন আলামত
সত্য-মিথ্যা
মুনাফিকের আলামত: মিথ্যা, ওয়াদা ভঙ্গ ও আমানতে খিয়ানত
ঊপদেশ : ৬২
ঊপদেশহাদিস নম্বর ৬২
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ. زَادَ مُسْلِمٌ: وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ. ثُمَّ اتَّفَقَا: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا اُؤْتُمِنَ خَانَ-
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ‘মুনাফিকের আলামত হচ্ছে তিনটা- যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট কোন কিছু (জিনিস বা কথা) আমানত রাখা হয়, তাতে সে খিয়ানত করে’। মুসলিমের বর্ণনায় এটাও রয়েছে যে, ‘যদিও সে ছালাত আদায় করে, ছিয়াম পালন করে এবং মনে করে যে, সে মুসলমান’ (মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত হা/৪৯)।
ঊপদেশ হাদিস ৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুনাফিকের আলামত তিনটি বলা হয়েছে। যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে; ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে; আর আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। এখানে ইসলাম মানুষের বাহ্যিক ইবাদতের পাশাপাশি চরিত্রকেও গুরুত্ব দিয়েছে। মুসলিমের পরিচয় শুধু সালাত বা সিয়ামের মধ্যে সীমিত নয়; কথার সত্যতা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং আমানতের দায়িত্বও তার জীবনের অংশ। মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, কেউ সালাত আদায় করলেও, সিয়াম পালন করলেও এবং নিজেকে মুসলিম মনে করলেও এই খারাপ গুণগুলো খুব বিপজ্জনক। তাই এই হাদিস আমাদের নিজের কথা, প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্ব নিয়ে নিয়মিত ভাবতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা বলা মুনাফিকী স্বভাবের একটি বড় আলামত।
- ওয়াদা করলে তা রক্ষা করা মুসলিম চরিত্রের অংশ।
- অমানত রাখা হলে তা সঠিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়া দরকার।
- ইবাদতের পাশাপাশি চরিত্র ঠিক রাখা জরুরি।
