৩৮/১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৩১ - মুনাফিকের তিনটি স্পষ্ট আলামত
মুনাফিকের আলামত (নিদর্শন)
মুনাফিকের ৩টি আলামত: মিথ্যা, ওয়াদা ভঙ্গ ও খিয়ানত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬৩১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬৩১
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ» . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الْعَلاَءِ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ .وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَنَسٍ وَجَابِرٍ .حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ وَأَبُو سُهَيْلٍ هُوَ عَمُّ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَاسْمُهُ نَافِعُ بْنُ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ الأَصْبَحِيُّ الْخَوْلاَنِيُّ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুনাফিকের আলামত বা নিদর্শন তিনটি। সে(১) কথা বললে মিথ্যা বলে,;(২) ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং(৩) তার নিকট আমানত রাখা হলে সে তার খিয়ানত করে।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং আল-আ’লার বর্ণনা হিসেবে গারীব। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে এই মর্মে নবী (ﷺ) এর হাদীস বর্ণিত আছে। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ, আনাস ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উপরোক্ত হাদীসের মত হাদীস ‘আলী ইবনু হুজ্র-ইসমাইল ইবনু জা’ফার হতে, তিনি আবূ সুহাইল ইবনু মালিক হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে তিনি নবী (ﷺ) হতে এই সূত্রে বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ। আবূ সুহাইল হলেন মালিক ইবনু আনাস (রহঃ)–এর চাচা, তার নাম নাফি‘। ইবনু মালিক ইবনু আবী ‘আমির আল-আসবাহী আল-খাওলানী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় মুনাফিকের তিনটি আলামত। প্রথমটি হলো, কথা বললে মিথ্যা বলা। দ্বিতীয়টি, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করা। তৃতীয়টি, আমানত রাখা হলে খিয়ানত করা। হাদিসটি আমাদের অন্যের দোষ খুঁজতে নয়, নিজের আচরণ যাচাই করতে শেখায়। আমি কি সুবিধার জন্য মিথ্যা বলি, প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলে যাই, অথবা কারও টাকা, গোপন কথা ও দায়িত্ব ঠিকভাবে রক্ষা করি না—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। মুনাফিকের আলামত বলতে এখানে এমন আচরণের ভয়াবহতা বোঝানো হয়েছে, যা একজন মুসলিমের চরিত্রে থাকা উচিত নয়। একটি ভুল হয়ে গেলে তা স্বীকার করে সংশোধন করতে হবে; কিন্তু একই কাজকে অভ্যাসে পরিণত করা বড় বিপদ। সত্য বলা, সম্ভব এমন ওয়াদা করা এবং আমানত যথাযথভাবে ফেরত দেওয়া—এই তিনটি অভ্যাস গড়ে তোলাই হাদিসটির সরাসরি ব্যবহারিক শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা বলা মুনাফিকসুলভ আচরণের একটি আলামত।
- ওয়াদা করে ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করা থেকে বাঁচতে হবে।
- টাকা, দায়িত্ব ও গোপন কথা—সব ধরনের আমানত রক্ষা করা জরুরি।
- হাদিসটি অন্যকে দোষী করার আগে নিজেকে সংশোধনের শিক্ষা দেয়।
