৩৮/১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৩২ - মুনাফিকের চারটি আচরণ থেকে বাঁচুন
মুনাফিকের আলামত (নিদর্শন)
মুনাফিকের ৪টি আলামত ও তা থেকে বাঁচার উপায়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬৩২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬৩২
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا وَإِنْ كَانَتْ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ فِيهِ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا مَنْ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ» . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ نِفَاقُ الْعَمَلِ وَإِنَّمَا كَانَ نِفَاقُ التَّكْذِيبِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ هَكَذَا رُوِيَ عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ شَيْئًا مِنْ هَذَا أَنَّهُ قَالَ النِّفَاقُ نِفَاقَانِ نِفَاقُ الْعَمَلِ وَنِفَاقُ التَّكْذِيبِ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির মধ্যে চারটি অভ্যাস রয়েছে সে মুনাফিক। আর যার মধ্যে এগুলোর কোন একটি অভ্যাস থাকে, তা ত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব থাকে। যে কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে, ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে এবং চুক্তি করলে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
হাসান ইবনু ‘আলী আল-খাল্লাল-‘আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর হতে, তিনি আ’মাশ হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুর্রাহ (রহঃ)–এর সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি ও হাসান সহীহ। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মনে করেন এ হাদীসের তাৎপর্য হল, কার্যকলাপে মুনাফিকী, এখনো যা বিদ্যমান আছে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর যুগে মুনাফিকী ছিল ইসলামকে অস্বীকার করার মুনাফিকী। হাসান বাস্রী (রহঃ) হতে একই রকম ব্যাখ্যা বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে চারটি মুনাফিকসুলভ স্বভাব বলা হয়েছে। কথা বললে মিথ্যা বলা, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করা, ঝগড়ায় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা এবং চুক্তি করলে বিশ্বাসঘাতকতা করা। যার মধ্যে সবগুলো থাকে, তাকে হাদিসে মুনাফিক বলা হয়েছে; আর একটি থাকলেও সেটি ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকির একটি স্বভাব থাকে। বর্ণনার শেষ অংশে এটি কাজের মুনাফিকি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই কাউকে অন্তরের বিশ্বাস সম্পর্কে তাড়াহুড়া করে রায় না দিয়ে নিজের কাজে এসব দোষ আছে কি না দেখা দরকার। বিশেষ করে রাগের সময় গালি, বিতর্কে সীমা ছাড়ানো, লিখিত বা মৌখিক চুক্তি ভাঙা এবং সুবিধামতো কথা বদলে ফেলা—এসব গুরুতর চরিত্রগত সমস্যা। মুনাফিকের চারটি আলামত থেকে বাঁচতে সত্যবাদিতা, নিয়ন্ত্রিত ভাষা, প্রতিশ্রুতি পালন এবং চুক্তিতে বিশ্বস্ততা গড়ে তুলতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা ও ওয়াদা ভঙ্গ মুনাফিকসুলভ স্বভাব।
- ঝগড়ার সময় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা গুরুতর দোষ।
- চুক্তিতে বিশ্বাসঘাতকতা থেকে বাঁচতে হবে।
- একটি খারাপ স্বভাব থাকলেও তা ত্যাগের চেষ্টা করা জরুরি।
