৫/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ৬৩ - মুনাফিকীর চার স্বভাব
সত্য-মিথ্যা
মুনাফিকীর চার স্বভাব: নিজের চরিত্র যাচাই করার হাদিস
ঊপদেশ : ৬৩
ঊপদেশহাদিস নম্বর ৬৩
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذا خَاصَمَ فَجَرَ-
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ‘চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকবে, সে পাক্কা মুনাফিক এবং যার মধ্যে এর একটা থাকবে, তার মধ্যে মুনাফিকীর একটা স্বভাব থাকবে, যে পর্যন্ত না সে তা পরিত্যাগ করবে।(১) যখন তার নিকট কিছু আমানত রাখা হয়, তাতে সে খিয়ানত করে,(২) সে যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে,(৩) যখন ওয়াদা করে, ভঙ্গ করে এবং(৪) যখন কারো সাথে ঝগড়া করে, তখন সে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫০)।
ঊপদেশ হাদিস ৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে চারটি স্বভাবের কথা এসেছে, যা মানুষের চরিত্রকে খুব ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমানত রাখা হলে খিয়ানত করা, কথা বললে মিথ্যা বলা, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করা এবং ঝগড়ার সময় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা—এগুলোকে মুনাফিকী স্বভাব বলা হয়েছে। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, যার মধ্যে এসবের একটি থাকবে, সে তা না ছাড়লে তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব থাকবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো আত্মপরীক্ষা। আমরা অনেক সময় নিজেদের ভালো মনে করি, কিন্তু কথা, প্রতিশ্রুতি, আমানত ও রাগের সময় ভাষা—এসব জায়গায় ভুল করি। তাই এই হাদিস মানুষকে নিজের আচরণ ঠিক করতে নরম কিন্তু শক্ত সতর্কতা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমানতে খিয়ানত করা মুনাফিকী স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত।
- মিথ্যা কথা মানুষের ঈমানী চরিত্রকে দুর্বল করে।
- চুক্তি বা ওয়াদা ভঙ্গ করা গুরুতর খারাপ অভ্যাস।
- ঝগড়ার সময় অশ্লীল ভাষা থেকে দূরে থাকা দরকার।
