৫/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ৬৪ - জিহ্বা সংযমের গুরুত্ব
সত্য-মিথ্যা
জিহ্বা সংযম: কথার কারণে বিপদে পড়া থেকে বাঁচার শিক্ষা
ঊপদেশ : ৬৪
ঊপদেশহাদিস নম্বর ৬৪
عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الثَّقَفِيِّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا أَخْوَفُ مَا تَخَافُ عَلَيَّ؟ قَالَ: فَأَخَذَ بِلِسَانِ نَفْسِهِ وَقَالَ هَذَا.
সুফিয়ান ইবনু আব্দুল্লাহ ছাকাফী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার জন্য যে জিনিসগুলি ভয়ের কারণ বলে আপনি মনে করেন তন্মধ্যে সর্বাধিক ভয়ংকর কোনটি? বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি নিজের জিহ্বা ধরলেন এবং বললেন, ‘এটা’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৮৪৩)।
ঊপদেশ হাদিস ৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন সাহাবী রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর জন্য সবচেয়ে বেশি ভয়ের বিষয় কী। রাসূল صلى الله عليه وسلم নিজের জিহ্বা ধরলেন এবং বললেন, এটি। হাদিসটি খুব ছোট, কিন্তু শিক্ষা গভীর। মানুষ অনেক সময় হাতে বা কাজে যত ভুল করে, কথার মাধ্যমেও তত বড় ক্ষতি করে বসে। মিথ্যা, কষ্টদায়ক কথা, অশ্লীল ভাষা, গীবত বা অন্যের ক্ষতি করা কথা—এসবের দরজা খুলে যায় জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ না করলে। তবে এই হাদিসে শুধু জিহ্বার ভয় বলা হয়েছে; অতিরিক্ত বিস্তারিত বিধান এখানে নেই। মূল বার্তা হলো, কথা বলার আগে ভাবা, অপ্রয়োজনীয় কথা কমানো এবং নিজের ভাষাকে আল্লাহর ভয় দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিহ্বা মানুষের জন্য বড় পরীক্ষার কারণ হতে পারে।
- কথা বলার আগে চিন্তা করা নিরাপদ অভ্যাস।
- ভাষা নিয়ন্ত্রণ করা মুসলিম চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর কথা থেকে দূরে থাকা দরকার।
