৬/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ৭৪ - মদপানকারীর জান্নাত সতর্কতা
নেশাদার দ্রব্য
মদ এমন একটি বস্তু যা বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর বিবেক আচ্ছন্ন হলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। এজন্য রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মদ হচ্ছে সকল অশ্লীল কর্মের মূল। উল্লেখ্য যে, মদ কোন নির্ধারিত বস্তুর নাম নয়। যেসব বস্তু বেশী পরিমাণ খেলে বিবেকের ক্ষতি হয় তার অল্প বস্তুও মদ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ- إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمْ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَعَنْ الصَّلاَةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنتَهُونَ-হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কর্ম। অতএব তোমরা এগুলি থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হও। শয়তান তোমাদের মাঝে মদ ও জুয়ার মাধ্যমে শত্র“তা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করতে চায় এবং আল্লাহর যিক্র ও ছালাত থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে চায়। তাহলে কি তোমরা বিরত থাকবে’? (মায়িদাহ ৯০-৯১)
সর্বদা নেশাদার দ্রব্য পানকারী: জান্নাত বিষয়ে কঠিন সতর্কতা
ঊপদেশ : ৭৪
ঊপদেশহাদিস নম্বর ৭৪
عَنْ أَبِى الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مُدْمِنُ خَمْرٍ.
আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘সর্বদা নেশাদার দ্রব্য পানকারী জান্নাতে যাবে না’
(ইবনু মাজাহ হা/৩৩৭৬, হাদীস সহীহ)।
ঊপদেশ হাদিস ৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, সর্বদা নেশাদার দ্রব্য পানকারী জান্নাতে যাবে না। হাদিসের ভাষা খুব কঠিন, তাই একে হালকা করে দেখা উচিত নয়। এখানে মূল বিষয় হলো মদাসক্তি ও নিয়মিত নেশা। নেশা মানুষের বিবেক ঢেকে দেয়, আমল দুর্বল করে এবং অনেক অন্যায়ের দরজা খুলে দিতে পারে। তবে হাদিস থেকে অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত বানানো ঠিক নয়; যে কথা এসেছে, সেটুকুই মানতে হবে। মুসলিমের কাজ হলো ভয় পাওয়া, নিজেকে ফিরিয়ে আনা এবং তওবার পথ ধরা। যদি কারও জীবনে এই অভ্যাস থাকে, তাহলে গোপনে বা প্রকাশ্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেশা ছাড়ার বাস্তব চেষ্টা করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিয়মিত নেশাদার দ্রব্য পানকারীর জন্য কঠিন সতর্কতা এসেছে।
- নেশাকে সাধারণ সামাজিক অভ্যাস মনে করা ভুল।
- নেশা ছাড়ার জন্য তওবা ও চেষ্টা দরকার।
- হাদিসের ভাষা যতটুকু, ব্যাখ্যাও ততটুকুতে রাখা উচিত।
