৬/১. অধ্যায়ঃ

ঊপদেশ হাদিস ৮১ - শাসকদের যুগ ও পাপকে হালাল মনে করার সতর্কতা

নেশাদার দ্রব্য

মদ এমন একটি বস্তু যা বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর বিবেক আচ্ছন্ন হলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। এজন্য রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মদ হচ্ছে সকল অশ্লীল কর্মের মূল। উল্লেখ্য যে, মদ কোন নির্ধারিত বস্তুর নাম নয়। যেসব বস্তু বেশী পরিমাণ খেলে বিবেকের ক্ষতি হয় তার অল্প বস্তুও মদ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ- إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمْ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَعَنْ الصَّلاَةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنتَهُونَ-হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কর্ম। অতএব তোমরা এগুলি থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হও। শয়তান তোমাদের মাঝে মদ ও জুয়ার মাধ্যমে শত্র“তা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করতে চায় এবং আল্লাহর যিক্‌র ও ছালাত থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে চায়। তাহলে কি তোমরা বিরত থাকবে’? (মায়িদাহ ৯০-৯১)

অত্যাচারী শাসক ও পাপকে হালাল মনে করার হাদিস

ঊপদেশহাদিস নম্বর ৮১

عَنْ مُعَاذِبْنِ جَبَلٍ عَنْ رَسُوْلِ الله ﷺ قَالَ إِنَّ هَذَا الْاَمْرَ بَدَأ نُبْوَةً وَرَحْمَةً ثُمّ يَكُوْنُ خِلَافَةً وَرَحْمَةً ثُمَّ مُلْكًا عَضُوْضًا ثم كَائِنٌ جَبْرِيّةً وَعُتُوًا وفَسَادًا فِى الْاَرْضِ يَسْتَحِلُّوْنَ الْحَرِيْرَ والْفُرُوْجَ والْخُمُوْرَ يُرْزَقُوْنَ عَلى ذلِكَ وَيُنْصَرُوْنَ حتّى يَلْقُوا اللهَ.

মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘ইসলামের সূচনা বা রাজত্ব শুরু হয়েছে নবী ও দয়া দ্বারা। তারপর রাজত্ব আসবে খেলাফত ও রহমত দ্বারা, তারপর আসবে অত্যাচারী শাসকদের যুগ। তারপর আসবে কঠোরতা, উচ্ছৃঙ্খলতা, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীর যুগ। এসব অত্যাচারী শাসকেরা রেশমী কাপড় পরিধান করা, অবৈধভাবে নারীদের লজ্জাস্থান উপভোগ করা এবং মদ পান করাকে হালাল মনে করবে। এরপরও তাদের প্রচুর রুযী দেয়া হবে। দুনিয়াবী যে কোন কাজে তাদের সাহায্য করা হবে। অবশেষে এ পাপের মধ্যে লিপ্ত থেকে আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত হবে’

(বায়হাক্বী, বাংলা মিশকাত হা/৫১৪৩, হাদীস সহীহ)।

ঊপদেশ হাদিস ৮১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় শাসনব্যবস্থা, ফিতনা এবং পাপকে হালাল মনে করার ভয়াবহতা। এখানে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলামের শুরুতে নবুয়ত ও রহমতের কথা বলেছেন। এরপর খেলাফত ও রহমতের যুগের কথা এসেছে। তারপর এমন রাজত্ব ও কঠোর শাসনের কথা বলা হয়েছে, যেখানে যুলুম, উচ্ছৃঙ্খলতা এবং জমিনে বিপর্যয় দেখা দেবে। হাদিসে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, কিছু অত্যাচারী শাসক রেশম, অবৈধ সম্পর্ক ও মদকে হালাল মনে করবে। তাদের দুনিয়াবী রিযিক ও সাহায্য পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু সেটি তাদের কাজের সঠিকতা প্রমাণ করে না। তাই মুমিনের জন্য শিক্ষা হলো—ক্ষমতা, ধন বা বাহ্যিক সফলতা দেখে পাপকে ছোট মনে করা যাবে না। তাই নেতৃত্বের অবস্থানে থাকা মানুষদের জন্য এটি আরও বড় সতর্কতা, আর সাধারণ মানুষের জন্যও সত্য ও পাপের পার্থক্য বুঝে চলার শিক্ষা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ক্ষমতা ও দুনিয়াবী সাফল্য পাপকে বৈধ করে না।
  • রহমতপূর্ণ নেতৃত্ব মানুষের জন্য কল্যাণের পথ খুলে দেয়।
  • যুলুম, মদ ও অশ্লীলতাকে হালাল মনে করা বড় সতর্কতার বিষয়।
  • দুনিয়ার সাহায্য পেলেও আল্লাহর সামনে জবাবদিহি থেকে কেউ মুক্ত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন