৬/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ৮৫ - ঈমান, সালাত, পরিবার ও গোনাহ থেকে বাঁচার দশ শিক্ষা
নেশাদার দ্রব্য
মদ এমন একটি বস্তু যা বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর বিবেক আচ্ছন্ন হলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। এজন্য রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মদ হচ্ছে সকল অশ্লীল কর্মের মূল। উল্লেখ্য যে, মদ কোন নির্ধারিত বস্তুর নাম নয়। যেসব বস্তু বেশী পরিমাণ খেলে বিবেকের ক্ষতি হয় তার অল্প বস্তুও মদ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ- إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمْ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَعَنْ الصَّلاَةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنتَهُونَ-হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কর্ম। অতএব তোমরা এগুলি থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হও। শয়তান তোমাদের মাঝে মদ ও জুয়ার মাধ্যমে শত্র“তা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করতে চায় এবং আল্লাহর যিক্র ও ছালাত থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে চায়। তাহলে কি তোমরা বিরত থাকবে’? (মায়িদাহ ৯০-৯১)
রাসূলের দশ উপদেশ: ঈমান, সালাত ও পরিবার জীবনের শিক্ষা
ঊপদেশ : ৮৫
ঊপদেশহাদিস নম্বর ৮৫
عَنْ مُعَاذٍ قَالَ أَوْصَانِى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِعَشْرِ كَلِمَاتٍ قَالَ لاَ تُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئاً وَإِنْ قُتِلْتَ وَحُرِّقْتَ وَلاَ تَعُقَّنَّ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ وَلاَ تَتْرُكَنَّ صَلاَةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّداً فَإِنَّ مَنْ تَرَكَ صَلاَةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّداً فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللهِ وَلاَ تَشْرَبَنَّ خَمْراً فَإِنَّهُ رَأْسُ كُلِّ فَاحِشَةٍ وَإِيَّاكَ وَالْمَعْصِيَةَ فَإِنَّ بِالْمَعْصِيَةِ حَلَّ سَخَطُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَإِيَّاكَ وَالْفِرَارَ مِنَ الزَّحْفِ وَإِنْ هَلَكَ النَّاسُ وَإِذَا أَصَابَ النَّاسَ مُوْتَانٌ وَأَنْتَ فِيْهِمْ فَاثْبُتْ وَأَنْفِقْ عَلَى عِيَالِكَ مِنْ طَوْلِكَ وَلاَ تَرْفَعْ عَنْهُمْ عَصَاكَ أَدَباً وَأَخِفْهُمْ فِى اللهِ.
মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) আমাকে দশটি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,(১) আল্লাহর সাথে কাউকেও শরীক করবে না, যদিও তোমাকে নিহত করা হয় বা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।(২) তুমি তোমার পিতা-মাতার অবাধ্য হবে না, যদি তারা তোমাকে তোমার পরিবার-পরিজন ও তোমার মাল-মাত্তা ছেড়ে যেতে বলেন।(৩) ইচ্ছা করে কখনও ফরজ সালাত ত্যাগ করবে না। কেননা যে ইচ্ছা করে ফরজ সালাত ছেড়ে দিবে, তার (হেফাজতের) পক্ষে আল্লাহর প্রদত্ত দায়িত্ব উঠে যাবে। (এখন তাকে কাফেরের ন্যায় হত্যা করা যেতে পারে)।(৪) কখনও শরাব পান করবে না। কেননা তা সমস্ত অশ্লীলতার মূল।(৫) সাবধান! (সর্বদা) গোনাহ হতে বেঁচে থাকবে। কেননা গোনাহগার দ্বারা আল্লাহর ক্রোধ পৌঁছে থাকে!(৬) খবরদার! জিহাদ হতে পলায়ন করবে না। যদিও সকল লোক ধ্বংস হয়ে যায়।(৭) যখন লোকের মধ্যে মহামারী দেখা দিবে আর তুমি সেখানে থাকবে, তখন তথায় অবস্থান করবে (পলায়ন করবে না)।(৮) তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করবে (কার্পণ্য করে তাদের খাওয়ার কষ্ট দিবে না)।(৯) তাদের (পরিবারের লোকদের) আদব-কায়দা শিক্ষা দানের ব্যাপারে শাসন হতে কখনও বিরত থাকবে না।(১০) এবং আল্লাহর সম্পর্কে তাদের ভয় প্রদর্শন করতে থাকবে’
(আহমাদ, মিশকাত হা/৬১)।
ঊপদেশ হাদিস ৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মু‘আয (রাঃ)-কে দশটি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। প্রথমে এসেছে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করা। এরপর পিতা-মাতার অবাধ্য না হওয়া, ইচ্ছা করে ফরয সালাত না ছাড়া, মদ পান না করা এবং গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার কথা এসেছে। আরও আছে জিহাদ থেকে পলায়ন না করা, মহামারী দেখা দিলে যেখানে আছে সেখানে স্থির থাকা, সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের জন্য ব্যয় করা, পরিবারকে আদব শেখানো এবং আল্লাহর ভয় মনে করিয়ে দেওয়া। হাদিসটি ব্যক্তিগত ঈমান, ইবাদত, পরিবার, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব—সব দিককে একসাথে মনে করিয়ে দেয়। এটি জীবনের জন্য সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী দিকনির্দেশনা। ফলে এই দশ উপদেশ একজন মুসলিমকে ঘর, সমাজ ও ব্যক্তিগত ইবাদতে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওহীদ হলো জীবনের সবচেয়ে মূল দায়িত্ব।
- ইচ্ছা করে ফরয সালাত ত্যাগ করা বড় সতর্কতার বিষয়।
- মদকে অশ্লীলতার মূল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- পরিবারের ব্যয়, আদব ও আল্লাহভীতি শেখানো দায়িত্বের অংশ।
