৬/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ৮৪ - খাদ্য-পানীয় ও আমোদ-প্রমোদের পরিণতি
নেশাদার দ্রব্য
মদ এমন একটি বস্তু যা বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর বিবেক আচ্ছন্ন হলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। এজন্য রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মদ হচ্ছে সকল অশ্লীল কর্মের মূল। উল্লেখ্য যে, মদ কোন নির্ধারিত বস্তুর নাম নয়। যেসব বস্তু বেশী পরিমাণ খেলে বিবেকের ক্ষতি হয় তার অল্প বস্তুও মদ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ- إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمْ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَعَنْ الصَّلاَةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنتَهُونَ-হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কর্ম। অতএব তোমরা এগুলি থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হও। শয়তান তোমাদের মাঝে মদ ও জুয়ার মাধ্যমে শত্র“তা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করতে চায় এবং আল্লাহর যিক্র ও ছালাত থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে চায়। তাহলে কি তোমরা বিরত থাকবে’? (মায়িদাহ ৯০-৯১)
ভোগ-বিলাস ও আমোদ-প্রমোদের পরিণতি নিয়ে হাদিস
ঊপদেশ : ৮৪
ঊপদেশহাদিস নম্বর ৮৪
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَيُبَيِّتَنَّ قَوْمٌ مِنْ هَذِهِ الْأمَّةِ عَلَى طَعَامٍ وَشَرَابٍ وَلَهْوٍ فَيَصْبَحُوْا قَدْ مَسَخُوْا قِرْدَةً وَخَنَازِرًا.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘অবশ্য অবশ্যই আমার উম্মতের কিছু সম্প্রদায় রাত্রি অতিবাহিত করবে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য-পানীয়তে ভোগ বিলাসী হয়ে এবং বিভিন্ন ধরনের বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদে। এমতাবস্থায় তাদের সকাল হবে শূকর ও বানরের আকৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে’
(সিলসিলা ছাহীহাহ হা/১৬০৪, ২৬৯৯)।
ঊপদেশ হাদিস ৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ভোগ-বিলাস, খাদ্য-পানীয় এবং আমোদ-প্রমোদের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তাঁর উম্মতের কিছু লোক রাত কাটাবে নানা ধরনের খাবার, পানীয় ও বিনোদনে ডুবে থেকে। এরপর তাদের সকাল হবে বানর ও শূকরের আকৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে। হাদিসটি আনন্দ বা খাবারকে আলাদা করে নিষিদ্ধ বলছে না; বরং এমন জীবনধারার দিকে সতর্ক করছে যেখানে মানুষ আল্লাহভীতি ভুলে ভোগ, নেশা এবং অসংযত বিনোদনে ডুবে যায়। মূল শিক্ষা হলো, আনন্দ যেন ঈমান, লজ্জা ও হারাম-হালালের সীমা নষ্ট না করে। দুনিয়ার মজা সাময়িক, কিন্তু জবাবদিহি খুব বাস্তব। পরিবার ও সমাজে এমন পরিবেশ তৈরি করা দরকার, যেখানে আনন্দ থাকবে কিন্তু হারামের সীমা অতিক্রম করা হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভোগ-বিলাসে ডুবে আল্লাহভীতি ভুলে যাওয়া বিপজ্জনক।
- বিনোদন যদি হারামের পথে নেয়, তা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- হাদিসে কিছু লোকের ভয়াবহ পরিণতির কথা এসেছে।
- খাবার-পানীয় ও আনন্দের ক্ষেত্রেও সীমা মানা জরুরি।
