২/১৭. অধ্যায়ঃ
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস হাদিস ২২ - চাশতের নামায ও দৈনিক সাদকাহ
চাশতের নামায পড়া
চাশতের নামায: শরীরের জোড়ার পক্ষ থেকে সাদকাহ
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস : ২২
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীসহাদিস নম্বর ২২
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ যার (রাঃ) নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই এমন অবস্থায় প্রভাব করে যে, তাকে তার প্রত্যেক জোড়াগুলোর পরিবর্তে সাদকা দেয়া লাগে। কাজেই প্রত্যেক বার ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলা সাদকা হিসেবে বিবেচিত হয়, প্রত্যেক বার ‘আল্লাহু আকবর’ বলা সাদকা হিসেবে গণ্য হয় এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাও সাদকা হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এসবের মুকাবিলায় চাশতের দু’রাকআ’ত নামাজই হবে যথেষ্ট”।
*এই নামাজের উত্তম সময় হলো, সূর্য পূর্ণ উদিত হওয়া থেকে ঠিক সূর্য মাথার উপরে আসা পর্যন্ত। এই নামাজের সংখ্যা হলো কমপক্ষে দু’রাকআ’ত আর বেশির কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। (মুসলিম ৭২০)
১০০ সুসাব্যস্ত হাদীস হাদিস ২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো চাশতের নামায ও সাদকাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মানুষের প্রতিটি জোড়ার জন্য সাদকাহ আছে। কিন্তু সাদকাহ শুধু টাকা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা, আল্লাহু আকবর বলা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করাও সাদকাহ হিসেবে গণ্য হয়। এরপর বলা হয়েছে, এসবের মুকাবিলায় চাশতের দু’রাকআত নামায যথেষ্ট হয়। তাই হাদিসটি আমাদের শেখায়, জিকির, ভালো কথা, ভালো কাজে ডাক দেওয়া এবং চাশতের নামায—সবই আল্লাহর কাছে মূল্যবান আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাদকাহ শুধু অর্থ দিয়ে নয়, জিকির ও ভালো কাজের মাধ্যমেও হয়।
- লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবর বলা সাদকাহ হিসেবে গণ্য।
- সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- চাশতের দু’রাকআত নামাযের বিশেষ মর্যাদা আছে।
