৫/২৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৩৩ - সশব্দ ও নিঃশব্দ কুরআন পাঠ
রাতের সালাতে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ
সশব্দ ও নিঃশব্দ কুরআন তিলাওয়াতের সুন্দর তুলনা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৩৩৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৩৩৩
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : «الْجَاهِرُ بِالْقُرْآنِ كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ، وَالْمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْمُسِرِّ بِالصَّدَقَةِ " .
উকবাহ বিন আমির আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উচ্চস্বরে পাঠকারী প্রকাশ্যে দানকারীর মত এবং নিঃশব্দে কোরআন পাঠকারী গোপনে দানকারীর মত।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কুরআন তিলাওয়াতের দুই অবস্থাকে দানের দুই অবস্থার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, উচ্চস্বরে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে দানকারীর মতো, আর নিঃশব্দে কুরআন পাঠকারী গোপনে দানকারীর মতো। এখানে সরাসরি কোনো একটিকে সব অবস্থায় অন্যটির চেয়ে ভালো বলা হয়নি; বরং দুই ধরনের আমলের আলাদা ছবি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্য দান যেমন অন্যকে উৎসাহ দিতে পারে, তেমনি গোপন দান নিজের ও আল্লাহর মাঝে থাকে। একইভাবে কুরআন তিলাওয়াতও কখনো সশব্দে, কখনো নিঃশব্দে হতে পারে। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরআন তিলাওয়াত, নিয়ত এবং অবস্থার উপযোগিতা। ‘সশব্দে কুরআন পড়া’, ‘নিঃশব্দে কুরআন তিলাওয়াত’ এবং ‘কিরাআতের আদব’—এসব বিষয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সশব্দে কুরআন পাঠ প্রকাশ্য দানের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
- নিঃশব্দে কুরআন পাঠ গোপন দানের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
- দুই অবস্থারই আলাদা সৌন্দর্য আছে, হাদিসে একটিকে সব সময় বাদ দেওয়া হয়নি।
- তিলাওয়াতে নিয়ত ও অবস্থার উপযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
