৬/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৭৫ - ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত সালাত
রমজান মাসের কিয়াম
ইমামের সাথে তারাবিহ শেষ করলে রাতের কিয়ামের সওয়াব
সুনানে আবূ দাউদ : ১৩৭৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৩৭৫
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ رَمَضَانَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا شَيْئًا مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ فَلَمَّا كَانَتِ السَّادِسَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا فَلَمَّا كَانَتِ الْخَامِسَةُ قَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ نَفَّلْتَنَا قِيَامَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ . قَالَ فَقَالَ " إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا صَلَّى مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ حُسِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ " . قَالَ فَلَمَّا كَانَتِ الرَّابِعَةُ لَمْ يَقُمْ فَلَمَّا كَانَتِ الثَّالِثَةُ جَمَعَ أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ وَالنَّاسَ فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلاَحُ. قَالَ قُلْتُ مَا الْفَلاَحُ قَالَ السُّحُورُ ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّةَ الشَّهْرِ .
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রমজান মাসের সাওম পালন করতাম। তিনি এ মাসে (প্রথম দিকের অধিকাংশ দিনই) আমাদেরকে নিয়ে (তাঁরাবীহ) সালাত আদায় করেননি। অতঃপর রমজানের সাত দিন বাকি থাকতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। তিনি পরবর্তী রাতে আমাদেরকে নিয়ে (মসজিদে) সালাত আদায় করলেন না।অতঃপর পঞ্চম রাতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে সালাতে দাঁড়িয়ে অর্ধেক রাত অতিবাহিত করেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি এ পুরো রাতটি আমাদেরকে নিয়ে সালাতে দাঁড়িয়ে থাকতেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তি ইমামের সাথে (‘ঈশার) সালাত আদায় করে প্রত্যাবর্তন করলে তাকে পুরো রাতের সালাত আদায়কারী হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বলেন, অতঃপর পরবর্তী চতুর্থ রাতে তিনি (মসজিদে) সালাত আদায় করেননি।যখন তৃতীয় রাত এলো তিনি তাঁর পরিবার-পরিজন, স্ত্রী ও অন্য লোকদের একত্র করলেন এবং আমাদেরকে নিয়ে এত দীর্ঘক্ষণ সালাত আদায় করলেন যে, আমরা ‘ফালাহ’ ছুটে যাওয়ার আশংকা করলাম। জুবাইর ইবনু নুফাইর বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ফালাহ’ কি? তিনি বললেন, সাহারী খাওয়া। অতঃপর তিনি এ মাসের অবশিষ্ট রাতে আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতে দাঁড়াননি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু যর (রাঃ) রমজান মাসে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সাথে সাওম ও রাতের সালাতের ঘটনা বলেছেন। মাসের প্রথম দিকে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের নিয়ে নিয়মিত কিয়াম করেননি। সাত দিন বাকি থাকতে তিনি রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সালাত আদায় করান। পরে পঞ্চম রাতে অর্ধেক রাত পর্যন্ত সালাত করান। আবু যর (রাঃ) পুরো রাত সালাতের ইচ্ছা প্রকাশ করলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, কেউ ইমামের সাথে সালাত আদায় করে ইমাম ফিরে যাওয়া পর্যন্ত থাকলে তাকে পুরো রাতের সালাত আদায়কারী হিসেবে গণ্য করা হয়। পরে তৃতীয় রাতে পরিবার, স্ত্রী ও অন্যদের একত্র করে এত দীর্ঘ সালাত করান যে সেহরি ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো ইমামের সাথে সালাত শেষ করা এবং রমজানের শেষ দিকের কিয়ামে যত্ন নেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামের সাথে সালাত শেষ করা গুরুত্বপূর্ণ ফজিলতের কারণ হিসেবে এসেছে।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সব রাতে জামাতে কিয়াম করাননি।
- রমজানের শেষ দিকে দীর্ঘ কিয়ামের বর্ণনা আছে।
- সেহরি ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা পর্যন্ত দীর্ঘ সালাতের ঘটনা এসেছে।
