৩২/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২০১৪ - রমজানের সাওম ও লাইলাতুল কদরের কিয়াম
লাইলাতুল কদর- এর ফজিলত।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ﴿ قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ مَا كَانَ فِي الْقُرْآنِ ﴾مَا أَدْرَاكَ﴿ فَقَدْ أَعْلَمَهُ وَمَا قَالَ ﴾وَمَا يُدْرِيكَ﴿ فَإِنَّهُ لَمْ يُعْلِمْهُআর মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয়ই আমি নাযিল করেছি এ কুরআন মহিমান্বিত রাত্রিতে। আর আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রাত্রি কী? মহিমান্বিত রাত্রি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। সেই রাত্রে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং রূহ তাদের প্রতিপালকের আদেশক্রমে অবতীর্ণ হয়। সেই রাত্রি শান্তিই শান্তি, ফজর হওয়া পর্যন্ত।” (আল-কদর: ১-৫)ইবন ‘উয়াইনা (রহঃ) বলেন, কুরআন মাজীদে যে স্থলে ﴾مَا أَدْرَاكَ﴿ উল্লেখ করা হয়েছে আল্লাহ তা‘আলা সে সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে অবহিত করেছেন। আর যে স্থলে ﴾وَمَا يُدْرِيكَ﴿ উল্লেখ করা হয়েছে তা তাঁকে অবহিত করাননি।"
রমজানের সাওম ও লাইলাতুল কদর: ঈমান ও সওয়াবের আশার আমল
সহীহ বুখারী : ২০১৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০১৪
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَفِظْنَاهُ وَإِنَّمَا حَفِظَ مِنَ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ». تَابَعَهُ سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় সাওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়। সুলায়মান ইব্নু কাসীর (রহঃ) যুহরী (রহঃ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২০১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুইটি বড় আমলের কথা এসেছে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সাথে ও সওয়াব লাভের আশায় সাওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। আবার যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে সালাত আদায় করে, তারও পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। তাই এখানে রমজানের সাওম এবং লাইলাতুল কদরের কিয়াম—দুই আমলই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। ‘লাইলাতুল কদরের ফজিলত’, ‘রমজানের রোজার ফজিলত’ এবং ‘ঈমান ও সওয়াবের আশায় ইবাদত’—এসব বিষয়ে এই হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের সাওম ঈমান ও সওয়াবের আশায় পালন করা উচিত।
- লাইলাতুল কদরে রাত জেগে সালাতের বড় ফজিলত এসেছে।
- ইবাদতের মূল শক্তি হলো ঈমান ও আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা।
