৩০/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯০১ - লাইলাতুল কদর ও রমজানের সাওমের ফজিলত
যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের উদ্দেশ্যে সংকল্প সহকারে সিয়াম পালন করবে।
وَقَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ يَبْعَثُونَ عَلَى نِيَّاتِهِمْ‘আয়িশা (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন, কিয়ামতের দিন নিয়ত অনুযায়ীই লোকদের উঠানো হবে।"
লাইলাতুল কদর ও রমজানের সাওম: গুনাহ মাফের আশা
সহীহ বুখারী : ১৯০১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৯০১
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদ্রে ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে, তার পিছনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমযানে সিয়াম পালন করবে, তারও অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯০১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: লাইলাতুল কদর। এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) দুইটি বড় আমলের কথা বলেছেন—লাইলাতুল কদরে রাত জেগে ইবাদত করা এবং রমজানে সিয়াম পালন করা। তবে এখানে শর্ত হিসেবে এসেছে ঈমান ও সওয়াবের আশা। অর্থাৎ কাজটি শুধু অভ্যাস বা লোক দেখানোর জন্য নয়, বরং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে এবং তাঁর কাছ থেকে প্রতিদান আশা করে করতে হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তি অতীতের গুনাহ মাফের সুসংবাদ পায়। তাই লাইলাতুল কদরের ইবাদত এবং রমজানের রোজা শুধু নিয়ম পালন নয়; এগুলো অন্তরের নিয়ত, বিশ্বাস ও আল্লাহমুখী জীবনের সঙ্গে জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লাইলাতুল কদরে ইবাদত করতে হলে ঈমান ও সওয়াবের আশা থাকা জরুরি।
- রমজানের সিয়াম শুধু না খেয়ে থাকা নয়; এটি আল্লাহর জন্য করা ইবাদত।
- সঠিক নিয়তসহ ইবাদত গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।
- রাতের ইবাদত ও রোজা—দুটিই বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফেরায়।
