৩০/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯০২ - রমজানে দানশীলতা ও কুরআন তিলাওয়াত
নবী (ﷺ) রমজানে সবচেয়ে বেশি দান করতেন।
রমজানে দানশীলতা ও কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক
সহীহ বুখারী : ১৯০২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৯০২
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ وَكَانَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَم يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ فِي رَمَضَانَ حَتَّى يَنْسَلِخَ يَعْرِضُ عَلَيْهِ النَّبِيُّ ﷺ الْقُرْآنَ فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَم كَانَ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنْ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ধন-সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে দানশীল ছিলেন। রমযানে জিবরাঈল (আঃ) যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরো অধিক দান করতেন। রমযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতেই জিবরাঈল (আঃ) তাঁর সঙ্গে একবার সাক্ষাৎ করতেন। আর নবী (ﷺ) তাঁকে কুরাআন শোনাতেন। জিবরাঈল (আঃ) যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি রহমতসহ প্রেরিত বায়ুর চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ দান করতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯০২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: রমজান। এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দানশীলতার সুন্দর ছবি এসেছে। তিনি সব সময়ই ধন-সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। তবে রমজানে জিবরাইল (আঃ) যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তাঁর দান আরও বেড়ে যেত। হাদিসে বলা হয়েছে, রমজানের প্রতি রাতে জিবরাইল (আঃ) আসতেন এবং নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে কুরআন শোনাতেন। তাই রমজান শুধু রোজার মাস নয়; এটি কুরআনের সঙ্গে বেশি সম্পর্ক গড়া এবং আল্লাহর পথে দান করার মাস। এখানে দানশীলতা, কুরআন পাঠ এবং রমজানের বিশেষ আমল—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানে কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল থেকে শেখা যায়।
- দানশীলতা ভালো কাজ, আর রমজানে তা আরও গুরুত্ব পায়।
- জিবরাইল (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নবী (صلى الله عليه وسلم) কুরআন শোনাতেন।
- রমজানে ইবাদত ও দান—দুটিই মানুষের জীবনকে আল্লাহমুখী করে।
