৯/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৫৮১ - বকরির যাকাত আদায়ের ন্যায্য নিয়ম
মাঠে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত
বকরির যাকাত আদায়ের ন্যায্য নিয়ম ও সতর্কতা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৫৮১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৫৮১
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَاقَ الْمَكِّيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الْجُمَحِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ ثَفِنَةَ الْيَشْكُرِيِّ، - قَالَ الْحَسَنُ رَوْحٌ يَقُولُ مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ - قَالَ اسْتَعْمَلَ نَافِعُ بْنُ عَلْقَمَةَ أَبِي عَلَى عِرَافَةِ قَوْمِهِ فَأَمَرَهُ أَنْ يُصَدِّقَهُمْ قَالَ فَبَعَثَنِي أَبِي فِي طَائِفَةٍ مِنْهُمْ فَأَتَيْتُ شَيْخًا كَبِيرًا يُقَالُ لَهُ سَعْرُ بْنُ دَيْسَمٍ فَقُلْتُ إِنَّ أَبِي بَعَثَنِي إِلَيْكَ - يَعْنِي لأُصَدِّقَكَ - قَالَ ابْنَ أَخِي وَأَىَّ نَحْوٍ تَأْخُذُونَ قُلْتُ نَخْتَارُ حَتَّى إِنَّا نَتَبَيَّنُ ضُرُوعَ الْغَنَمِ. قَالَ ابْنَ أَخِي فَإِنِّي أُحَدِّثُكَ أَنِّي كُنْتُ فِي شِعْبٍ مِنْ هَذِهِ الشِّعَابِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي غَنَمٍ لِي فَجَاءَنِي رَجُلاَنِ عَلَى بَعِيرٍ فَقَالاَ لِي إِنَّا رَسُولاَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِلَيْكَ لِتُؤَدِّيَ صَدَقَةَ غَنَمِكَ. فَقُلْتُ مَا عَلَىَّ فِيهَا فَقَالاَ شَاةٌ. فَأَعْمِدُ إِلَى شَاةٍ قَدْ عَرَفْتُ مَكَانَهَا مُمْتَلِئَةً مَحْضًا وَشَحْمًا فَأَخْرَجْتُهَا إِلَيْهِمَا. فَقَالاَ هَذِهِ شَاةُ الشَّافِعِ وَقَدْ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ نَأْخُذَ شَافِعًا. قُلْتُ فَأَىَّ شَىْءٍ تَأْخُذَانِ قَالاَ عَنَاقًا جَذَعَةً أَوْ ثَنِيَّةً . قَالَ فَأَعْمِدُ إِلَى عَنَاقٍ مُعْتَاطٍ. وَالْمُعْتَاطُ الَّتِي لَمْ تَلِدْ وَلَدًا وَقَدْ حَانَ وِلاَدُهَا فَأَخْرَجْتُهَا إِلَيْهِمَا فَقَالاَ نَاوِلْنَاهَا . فَجَعَلاَهَا مَعَهُمَا عَلَى بَعِيرِهِمَا ثُمَّ انْطَلَقَا.قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ أَبُو عَاصِمٍ عَنْ زَكَرِيَّاءَ قَالَ أَيْضًا مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ. كَمَا قَالَ رَوْحٌ.
মুসলিম ইবনু শু‘বাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
নাফি’ ইবনু আলক্বামাহ (রহঃ) আমার পিতাকে নিজ গোত্রপ্রধান নিযুক্ত করে তাদের কাছ থেকে যাকাত আদায়ের নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা আমাকে তাদের এক গোষ্ঠীর কাছে প্রেরণ করেন। অতঃপর আমি সি‘র ইবনু দায়সাম নামক এক বৃদ্ধের কাছে এসে বললাম, আমার পিতা আমাকে আপনার কাছে যাকাত উসুল করতে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কিভাবে নিবে? আমি বললাম, আমার বাছাই করবো, আমরা বকরীর বাঁট দেখে যাচাই করবো।তিনি বললেন, হে ভাতিজা! আমি তোমাকে একটি হাদীস বলছি। রাসূলুল্লাহর (ﷺ) যুগে একদা আমি কোন এক উপত্যকায় আমার মেষপাল চরাচ্ছিলাম। এমন সময় দুইজন লোক একটি উটে চড়ে আমার নিকট এসে বললো, আমরা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) প্রতিনিধি হিসাবে আপনার মেষপালের যাকাত উসুল করতে আপনার কাছে প্রেরিত হয়েছি। আমি বললাম, আমি কি প্রদান করবো? তারা বলেন, বকরী। সুতরাং আমি এমন একটি বিশেষ বকরী দেয়ার মনস্থ করলাম, সেটির বাঁট দুধে ভর্তি, খুব মোটাতাজা চর্বিওয়ালা।আমি তাদেরকে সেটা বের করে দিলে তারা বললেন এটা তো জোড়াওয়ালা (বাচ্চাওয়ালা) বকরী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে জোড়াওয়ালা বকরী নিতে বারণ করেছেন। আমি বললাম, তাহলে আপনারা কেমন বকরী নিবেন? তারা বললেন, এক বছর কিংবা দুই বছর বয়সী বকরী। তিনি বলেন, তখন আমি একটি ‘সু‘তাত্’ বকরীর দেয়ার মনস্থ করলাম। সু‘তাত্ ঐ বকরীকে বলে যা কোনো বাচ্চা দেয়নি, কিন্তু গর্ভধারণের উপযুক্ত হয়েছে। সেটি এনে তাদেরকে দিলে তারা বললেন, হাঁ, আমরা এটি নিতে পারি। অতঃপর তারা বকরীটিকে তাদের উটের পিঠে তুলে নিয়ে চলে যায়।
[১৫৮১] নাসায়ী (অধ্যায়ঃ যাকাত, হাঃ ২৪৬১), আহমাদ (৩/৪১৪)। এর সনদ দুর্বল। সনদের মুসলিম ইবনু শু‘বাহ সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল। ইরওয়াউল গালীল (৭৯৬)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৫৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বকরির যাকাত আদায়ের একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে। সাঈর ইবন দায়সাম জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর দুই প্রতিনিধি তাঁর মেষপালের যাকাত নিতে এসেছিলেন। তিনি দুধে ভরা, মোটা ও বাচ্চাওয়ালা একটি ভালো বকরী দিতে চাইলেন। কিন্তু প্রতিনিধিরা জানালেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁদেরকে জোড়াওয়ালা বা বাচ্চাওয়ালা বকরী নিতে নিষেধ করেছেন। পরে তারা এক বছর বা দুই বছর বয়সী উপযুক্ত বকরী গ্রহণ করেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, যাকাত আদায়কারী নিজের ইচ্ছামতো মালিকের সবচেয়ে ভালো পশু বেছে নেবে না। আবার মালিকও যাকাতের নামে অনুপযুক্ত কিছু দেবে না। বকরির যাকাত, যাকাত আদায়ের নিয়ম এবং পশুর যাকাত সম্পর্কে এই হাদিস ন্যায় ও ভারসাম্যের পথ দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাকাত আদায়ে মালিকের ক্ষতি করে সবচেয়ে ভালো পশু নেওয়া উচিত নয়।
- বাচ্চাওয়ালা বা দুধের প্রয়োজনীয় পশু যাকাত হিসেবে নেওয়া থেকে বারণ করা হয়েছে।
- যাকাত আদায়কারীকে নির্দেশিত নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে।
- যাকাতের ক্ষেত্রে ন্যায়, সতর্কতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
