৯/৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৫৮৬ - আদায়কারীর অন্যায় হলেও গোপন নয়
যাকাত আদায়কারীর সন্তুষ্টি অর্জন সম্পর্কে
যাকাত আদায়কারীর সীমালঙ্ঘন হলেও সম্পদ গোপন নয়
সুনানে আবূ দাউদ : ১৫৮৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৫৮৬
حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ حَفْصٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ رَجُلٍ، يُقَالُ لَهُ دَيْسَمٌ - وَقَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ مِنْ بَنِي سَدُوسٍ - عَنْ بَشِيرِ بْنِ الْخَصَاصِيَةِ، - قَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ فِي حَدِيثِهِ وَمَا كَانَ اسْمُهُ بَشِيرًا - وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ سَمَّاهُ بَشِيرًا قَالَ قُلْنَا إِنَّ أَهْلَ الصَّدَقَةِ يَعْتَدُونَ عَلَيْنَا أَفَنَكْتُمْ مِنْ أَمْوَالِنَا بِقَدْرِ مَا يَعْتَدُونَ عَلَيْنَا فَقَالَ «لاَ».
বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বর্ণনাকারী ইবনু ‘উবাইদ তাঁর বর্ণনায় বলেন, আসলে তাঁর নাম বাশীর ছিল না, বরং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নাম বাশীর রাখেন। তিনি বলেন, আমরা বললাম, যাকাত আদায়কারীরা আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করেন (ফারযের অধিক নিয়ে যান)। কাজেই তাঁরা যে পরিমাণ মাল আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করেন ঐ পরিমাণ মাল কি আমরা গোপন করবো? তিনি বলেন, না।
[১৫ logic৮৬] সনদ দুর্বল। মিশকাত (হাঃ ১৭৮৪)। সনদের দায়সাম সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৫৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাকাতদাতার আচরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে। লোকেরা বলেছিল, যাকাত আদায়কারীরা আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করে, অর্থাৎ ফরজের বেশি নিয়ে যায়। তাহলে তারা যতটা বেশি নেয়, আমরা কি ততটা সম্পদ গোপন করতে পারি? উত্তরে বলা হলো, না। এখানে শিক্ষা হলো, অন্যের ভুল দেখে নিজের দায়িত্বে ভুল করা যাবে না। যাকাত আদায়কারীর অন্যায় আলাদা বিষয়, কিন্তু যাকাতদাতার জন্য সম্পদ লুকানো বা হিসাব কম দেখানো বৈধ আচরণ নয়। যাকাত আদায়ের নিয়ম, আমানতদারি এবং মুসলিমের আর্থিক সততা—এই হাদিসের মূল বিষয়। এটি মানুষকে শেখায়, অন্যায়ের জবাব আরেক অন্যায় দিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাকাত আদায়কারী অন্যায় করলেও সম্পদ গোপন করা যাবে না।
- নিজের দায়িত্ব পালনে সততা বজায় রাখা জরুরি।
- অন্যের সীমালঙ্ঘন নিজের অন্যায়ের অজুহাত হতে পারে না।
- যাকাতের হিসাব দিতে গিয়ে সত্যবাদিতা দরকার।
