৯/১৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬০০ - মধুর উশর ও ভূমি ব্যবহারের অধিকার
মধুর যাকাত
মধুর উশর ও সালাবা ওয়াদীর বন্দোবস্তের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৬০০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৬০০
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ الْمِصْرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَ هِلاَلٌ - أَحَدُ بَنِي مُتْعَانَ - إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِعُشُورِ نَحْلٍ لَهُ وَكَانَ سَأَلَهُ أَنْ يَحْمِيَ لَهُ وَادِيًا يُقَالُ لَهُ سَلَبَةُ فَحَمَى لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ذَلِكَ الْوَادِي فَلَمَّا وُلِّيَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - كَتَبَ سُفْيَانُ بْنُ وَهْبٍ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ فَكَتَبَ عُمَرُ رضى الله عنه إِنْ أَدَّى إِلَيْكَ مَا كَانَ يُؤَدِّي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مِنْ عُشُورِ نَحْلِهِ لَهُ فَاحْمِ لَهُ سَلَبَةَ وَإِلاَّ فَإِنَّمَا هُوَ ذُبَابُ غَيْثٍ يَأْكُلُهُ مَنْ يَشَاءُ .
‘আমর ইবনু শু’আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদা হতে বর্ণিতঃ
মুত্য়ান গোত্রের হিলাল নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিকট তার মধুর ‘উশর’ নিয়ে এলেন এবং তাঁর নিকট ‘সালাবাহ্’ নামক একটি সমতলভূমি বন্দোবস্ত চাইলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে উক্ত ভূমিটি বন্দোবস্ত দিলেন। পরবর্তীতে যখন ‘উমর (রাঃ) খলীফা হন, তখন (এ এলাকার আমীর) সুফয়ান ইবনু ওয়াহাব ‘উমর ইবনুল খাত্তাবকে (রাঃ) ঐ ভূমির বিষয়ে চিঠি লিখে জানতে চাইলেন। উত্তরে ‘উমর (রাঃ) তাকে লিখেনঃ তিনি (হিলাল) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তার মধুর যে ‘উশর’ দিতেন তিনি যদি তা তোমাকেও দেন তাহলে ‘সালাবা’ ওয়াদীতে তার বন্দোবস্ত বহাল রাখবে। অন্যথায় তা বনের মৌমাছি হিসেবে গণ্য হবে এবং যে কেউ তার মধু খেতে পারবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৬০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হিলাল নামের এক ব্যক্তির ঘটনা এসেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে তাঁর মধুর উশর নিয়ে আসেন এবং সালাবা নামে একটি ওয়াদী নিজের জন্য নির্দিষ্টভাবে ব্যবহারের অনুরোধ করেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে সেই ওয়াদী বন্দোবস্ত দেন। পরে উমর রাঃ-এর সময় এলাকার আমীর এ বিষয়ে জানতে চাইলে উমর রাঃ লিখে জানান, হিলাল যদি আগের মতো মধুর উশর দেয়, তাহলে সালাবা ওয়াদীতে তার বন্দোবস্ত বহাল থাকবে। আর যদি না দেয়, তবে তা বনের মৌমাছি হিসেবে থাকবে এবং যে কেউ তার মধু খেতে পারবে। এই হাদিসে মধুর উশর, দায়িত্বের বিনিময়ে অধিকার এবং জনসম্পদের ব্যবহারের একটি বাস্তব দিক দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মধুর উশর দেওয়ার ঘটনা এই হাদিসে এসেছে।
- কোনো অধিকার থাকলে তার সঙ্গে দায়িত্বও থাকতে পারে।
- চুক্তির মতো ব্যবস্থায় আগের শর্ত মানা গুরুত্বপূর্ণ।
- দায়িত্ব না মানলে নির্দিষ্ট সুবিধা বহাল নাও থাকতে পারে।
