১/৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৭ - পবিত্রতা ছাড়া যিকর অপছন্দ
পেশাবরত অবস্থায় সালামের জবাব দেয়া
পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহর নাম স্মরণ অপছন্দ: সালামের জবাবের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ১৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ حُضَيْنِ بْنِ الْمُنْذِرِ أَبِي سَاسَانَ، عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ يَبُولُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ حَتَّى تَوَضَّأَ ثُمَّ اعْتَذَرَ إِلَيْهِ فَقَالَ " إِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أَذْكُرَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ عَلَى طُهْرٍ». أَوْ قَالَ «عَلَى طَهَارَةٍ».
আল-মুহাজির ইবনু কুনফুয (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট গিয়ে তাঁকে সালাম দিলেন। তখন নবী (ﷺ) পেশাব করছিলেন। সেজন্য অযূ না করা পর্যন্ত তিনি তার জবাব দিলেন না। অতঃপর (পেশাব শেষে অযূ করে) তিনি তার নিকট ওযর পেশ করে বললেন, পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহর নাম স্মরণ করা আমি অপছন্দ করি।
এ অনুচ্ছেদের হাদীস থেকে শিক্ষাঃ১। হাদীসটি প্রমাণ করে পেশাব পায়খানার সময়ে আল্লাহর যিকর করা অপছন্দনীয়।২। উচিত হলো, কেউ পেশাব-পায়খানার সময় সালাম দিলে উযূ বা তায়াম্মুম করার পর তার উত্তর দেয়া।৩। নবী (ﷺ) মুকীম অবস্থায় অসুস্থতা ও ওজর ব্যতিরেকেই তায়াম্মুম করেছেন। আর ইমাম আওযায়ীর অভিমতও এটাই যে, জুনুবী ব্যক্তি যদি এ আশঙ্কা করেন যে, গোসল করতে গেলে সূর্যোদয় হয়ে যাবে তখন তিনি ওয়াক্ত ছুটে যাওয়ার পূর্বেই তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করে নিবেন। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহঃ) সহ বহু মনীষী এ অভিমত পোষণ করেছেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুহাজির ইবনু কুনফুয (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গিয়ে সালাম দেন, তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) পেশাব করছিলেন। তিনি ওজু না করা পর্যন্ত জবাব দেননি। এরপর ওজু করে তাঁর কাছে ওজর পেশ করেন এবং বলেন, পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহর নাম স্মরণ করা তিনি অপছন্দ করেন। এই বর্ণনা আগের হাদিসের বিষয়কে আরও স্পষ্ট করে—সালামের জবাব শুধু সামাজিক উত্তর নয়, এতে আল্লাহর নামও আছে। তাই পবিত্রতার আদব এখানে গুরুত্ব পেয়েছে। “পবিত্রতা ছাড়া যিকর” এবং “পেশাবের সময় সালামের জবাব” বিষয়ে এই হাদিস সরাসরি সম্পর্কিত। তবে হাদিসে বলা হয়েছে তিনি অপছন্দ করতেন; তাই ব্যাখ্যায় এর চেয়ে বেশি দাবি করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পেশাবরত অবস্থায় সালামের জবাব বিলম্বিত করার বর্ণনা এসেছে।
- ওজুর পর জবাব দিয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم) কারণ জানিয়েছেন।
- আল্লাহর নাম স্মরণে পবিত্রতার আদব রাখা ভালো।
- কারও প্রশ্ন বা সালামের জবাব বিলম্ব হলে কারণ ব্যাখ্যা করা সুন্দর আচরণ।
